Category: Miscellaneous

  • আবিষ্কার ও আবিষ্কারক Important List of 200 Inventions

    আবিষ্কার ও আবিষ্কারক Important List of 200 Inventions

    আবিষ্কার ও আবিষ্কারক

    ২০০ টি গুরুত্বপূর্ণ বিষ্কার ও আবিষ্কারক

    আবিষ্কার ও আবিষ্কারক

    আজকের পোষ্টে আমরা বিভিন্ন আবিষ্কার ও আবিষ্কারক এর একটি তালিকা শেয়ার করছি।বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক চাকরির পরীক্ষায় আবিষ্কার ও আবিষ্কারক সম্বন্ধীয় কোনো না কোনো প্রশ্ন প্রায়ই এসে থাকে। তাই যারা বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছো তারা এই তালিকাটি দেখে নাও এবং  নিজেকে প্রস্তুত করে নাও। এখানে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ 200টি আবিষ্কার ও আবিষ্কারকের নাম তালিকাবদ্ধ করে দেওয়া হল। আশা করি তালিকাটি তোমাদের প্রস্তুতিতে কাজে লাগবে এবং এই ধরনের আরও সাধারণ জ্ঞান সংক্রান্ত নতুন নতুন পোষ্ট পেতে আমাদের পেজটি নিয়মিত ফলো করতে থাকুন 

    ভারতীয়

    নংআবিষ্কারআবিষ্কারক
    01উদ্ভিদের প্রাণ আছেজগদীশচন্দ্র বসু
    02শূন্যব্রহ্মগুপ্ত (আর্যভট্ট প্রথম ধারণা দেন)
    03হরগোবিন্দ খোরানাজেনেটিক কোড
    04চন্দ্রশেখর ভেঙ্কটরামনরামন এফেক্ট
    05সত্যেন্দ্রনাথ বসুবোসন তত্ত্ব
    06মারকিউরিক নাইট্রেটআচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়
    07দশমিক পদ্ধতিআর্যভট্ট
    08ম্যালেরিয়া জীবাণুস্যার রোনাল্ড রস
    09কালাজ্বরের ঔষধউপেন্দ্রনাথ ব্রহ্মচারী
    10পৃথিবীর তরল কেন্দ্রমণ্ডলরিচার্ড ওল্ডহ্যাম

    আবিষ্কার ও আবিষ্কারক

    বিবিধ-1

    নংআবিষ্কারআবিষ্কারক
    11ডিনামাইটআলফ্রেড নোবেল
    12পর্যায় সূত্র দিমিত্রি মেন্ডেলিফ
    13ডায়নামোমাইকেল ফ্যারাডে
    14ক্যালকুলেটরব্রেইজ পাস্কেল
    15অ্যানিমোমিটার লিওন বাতিস্তা অ্যালবার্টি
    16পতনশীল বস্তুর সুত্রগ্যালিলিও
    17এটিএমডোনাল্ড ওয়েটজল
    18ইন্ডাকসন মোটরনিকোলা টেসলা 
    19ব্রেইল পদ্ধতিলুইস ব্রেইল
    20ড্রাই সেল ব্যাটারিজর্জ ল্যাকলেন্স
    21জেট ইঞ্জিনহ্যান্স ভন ওহাইন
    22মাইক্রোস্কোপজ্যান্সেন
    23দেশলাইজন ওয়াকার
    24বায়ু নিষ্কাশন পাম্পঅটো ভন গেরিক
    25রেফ্রিজারেটরজ্যাকব পার্কিনস 
    26পারমানবিক বোমাআলফ্রেড নভেল
    27মুদ্রন যন্ত্রগুটেনবার্গ
    28টাইপ রাইটারক্রিস্টোফার লাথাম সেলস
    29থার্মোমিটারগ্যালিলিও গ্যালিলি
    30ফাউন্টেন পেনওয়াটার ম্যান

    CLICK HERE for Class X English

    কম্পিউটার সংক্রান্ত
    আবিষ্কার ও আবিষ্কারক

    নংআবিষ্কারআবিষ্কারক
    31কম্পিউটারচার্লস ব্যাবেজ
    32ল্যাপটপএডাম অসবর্ন
    33কম্পিউটার মাউস ডগলাস কার্ল এঞ্জেলবার্ট
    34সার্চ ইঞ্জিন googleল্যারি পেইজ এবং সার্জেই ব্রিন
    35মাইক্রোপ্রসেসরডঃ টেড হফ্
    36ইথারনেটরবার্ট মেটকালফে
    37বাইনারি সিস্টেমজর্জ বুল 
    38C প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজডেনিস রিচি
    39জাভা প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজজেমস গোসলিং
    40আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সজন ম্যাকার্থি
    41অভ্র কী বোর্ডডা. মেহেদি হাসান
    42সিডি (CD) জেমস রাসেল
    43ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব (WWW)টিম বারনারস লি
    44র‍্যামরবার্ট হিথ ডেনার্ড
    45ইলেকট্রনিক মেইলরে টমলিনসন
    46ফ্লপি ডিস্কআইবিএম
    47মোবইল ফোনমার্টিন কুপার
    48টাচস্ক্রিন মোবাইল ফোনস্টিভ জবস
    49লেজারথিয়েডর এইচ. মাইম্যান
    50ই-বুকমাইকেল র্স্টান হার্ট

    বিবিধ-2
    আবিষ্কার ও আবিষ্কারক

    নংআবিষ্কারআবিষ্কারক
    51জ্যামিতিইউক্লিড
    52ক্যালকুলাসআইজ্যাক নিউটন
    53পারমাণবিক বিভাজনঅটো হ্যান
    54রিভলভারস্যামুয়েল কোল্ট
    55ক্যান্সারের প্রতিষেধকডা.ফুডা ফোকম্যান
    56সেফটি পিনওয়াল্টার হান্ট
    57সেলাই মেশিনএলিয়াস হোয়ে
    58পরম শূন্য স্কেলকেলভিন
    59QR কোডডেনসো ওয়েব
    60 সামরিক ট্যাংকআর্নেস্ট সুইংটন
    61ক্রেডিট কার্ডফ্রাঙ্ক এক্স ম্যাকনামারা
    62বৈদ্যুতিক বাতিটমাস আলভা এডিসন
    63MRIপলসি লটারবার ও পিটার ম্যান্সফিল্ড
    64এক্স-রেউইলহেম রন্টজেন
    65হার্ট-ল্যাঙ্গস মেশিনজন হেইনশ্যাম
    66ই.সি.জিউইলিয়াম এইনথোভেন
    67ব্যারোমিটারটরিসেলি
    68পাইরোমিটারজোসিয়াহ ওয়েজউড
    69গ্যালভানোমিটারআন্দ্রে মেরি অ্যাম্পিয়ার
    70ক্রোনোমিটারজন হ্যারিসন

    দশম শ্রেণির গণিত প্রকাশের সম্পূর্ণ সমাধান পেতে এখানে CLICK করুন।

    মহাবিশ্ব সংক্রান্ত
    আবিষ্কার ও আবিষ্কারক

    নংআবিষ্কারআবিষ্কারক
    71সৌরজগতনিকোলাস কোপারনিকাস
    72  ওজোন স্তরচার্লস ফ্যব্রি এবং হেনরি বুইসন
    73টেলিস্কোপহ্যান্স লিপারসি / গ্যালিলিও গ্যালিলি
    74ইউরেনাসউইলিয়াম হার্সচেল
    75হ্যালির ধূমকেতুএডমন্ড হ্যালি
    76মাধ্যাকর্ষন সূত্রস্যার আইজ্যাক নিউটন
    77মহাজাগতিক রশ্মিহেস
    78নেপচুন গ্রহজোহান গ্যালে
    79রিখটার স্কেলচার্লস এফ. রিখটার
    80গ্রহের কক্ষের সূত্রজোহানেস কেপলার
    81অস্ট্রেলিয়াক্যাপ্টেন আর্থার ফিলিস্তিনি /
    উইলিয়াম জ্যাকসন
    82আমেরিকাক্রিস্টোফার কলম্বাস
    83 বিগ ব্যাং তত্ত্বজর্জ এ. গামো
    84পশ্চিম ভারতীয় দ্বীপপুঞ্জকলম্বাস
    85ব্ল্যাক হোলজন হুইলার
    86মহাজাগতিক বিকিরনভিক্টর হেস
    87গ্রিনল্যান্ডএরিক দি রেড ভাইকিং
    88ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাতডেভিড লিভিংস্টোন
    89উত্তর মেরুরবার্ট পিয়েরে
    90দক্ষিণ মেরুব্রমান্ড সেন

    বিবিধ-3
    আবিষ্কার ও আবিষ্কারক

    নংআবিষ্কারআবিষ্কারক
    91RNAঅ্যালবারত কোসেল
    92মিসাইলনাথান ওয়েগনার
    93কোয়ান্টাম তত্ত্বম্যাক্স প্লান্ক
    94এরোসোল স্প্রেএরিক রথেম
    95প্লবতাআর্কিমিডিস 
    96ইস্পাতরোসেমার
    97 এয়ার কন্ডিশনারডব্লিউ এইচ ক্যারিয়ার।
    98ক্রেস্ক্রোগ্রাফজগদীশ চন্দ্র বসু
    99রাডারএএইচ টেলর এবং
    লিও সি ইয়ং
    100টায়ারবয়েন্ড ডানলপ
    101ফনোগ্রাফটমাস আলভা এডিসন
    102ব্লেডকিং জিলেট
    103ওয়্যারলেসটেলর ও ইয়ং
    104ওয়াকম্যানআকিও মোরিতা
    105ল্যাপটপবিল মেগরিজ
    106গ্যাস লাইটউইলিয়াম মারডক
    107প্রেসার কুকাররবার্ট বয়েল
    108পাস্তুরাইজেশনলুই পাস্তুর
    109ন্যাপথলিনগার্ডেন
    110গতি সূত্রআইজ্যাক নিউটন।

    CLICK HERE to see important Government & Private Scholarship

    পরিবহন সংক্রান্ত
    আবিষ্কার ও আবিষ্কারক

    নংআবিষ্কারআবিষ্কারক
    111বাই সাইকেল পিয়ের মিশো এবং
    পিয়ের লালেমেন্ট/
    ম্যাকমিলান
    112মোটর সাইকেলএডওয়ার্ড বাটলার
    113ডিজেল ইঞ্জিনরুডলফ ডিজেল
    114পেট্রল ইঞ্জিননিকোলাস অটো
    115রেল ইঞ্জিনজর্জ স্টিভেনসন
    116স্টিম ইঞ্জিনস্টিম ইঞ্জিন
    117জেট ইঞ্জিনফ্রাঙ্ক হুইটল
    118সাবমেরিনডেভিড বুসনেল
    119রকেটরবার্ট গোডার্ড 
    120তরল-জ্বালানী ব্যবহার
    উপযোগী রকেট
    ফন ব্রাউন
    বিভিন্ন দেশের সীমারেখা madhyamik-prostutI
    মাধ্যমিকের সব বিষয়ের জন্য App Madhyamik Prostuti ডাউনলোড করতে এখানে CLICK করুন

    পদার্থ বিজ্ঞান সংক্রান্ত
    আবিষ্কার ও আবিষ্কারক

    নংআবিষ্কারআবিষ্কারক
    121অক্সিজেনজে বি প্রিস্টলি
    122ওজোনস্কোনবীনি
    123হাইড্রোজেনহেনরি ক্যাভেন্ডিস
    124ক্লোরিনকার্ল উইলহেলম শীলে
    125নাইট্টোজেনড্যানিয়েল রাদারফোর্ড
    126হিলিয়ামজুলস জানসেন
    127পারমাণবিক সংখ্যামোঁসলে
    128আপেক্ষিক তত্ত্বআলবার্ট আইনস্টাইন
    129গামা রশ্মিপল ভিলার্ড 
    130প্রোটনআর্নেস্ট রাদারফোর্ড
    131ইলেক্ট্রনস্যার জোসেফ জন থমসন
    132নিউট্রনজেমস চ্যাডউইক
    133ইউরিয়াফ্রেড্ররিখ ভোহলার
    134আয়োডিনবার্নার্ড কোর্টয়েজ
    135ওহমের সূত্রজর্জ এস ওহম
    136ইউরেনিয়াম মার্টিন হাইনরিখ ক্ল্যাপরথ
    137রেডিয়ামম্যাডম কুরি ও পিয়েরে কুরি।
    138প্লুটোনিয়ামসিবোর্গ
    139তেজস্ক্রিয়তাহেনরি বেকারেল
    140কৃত্রিম তেজস্ক্রিয়জুলিও কুরি

    একাদশ শ্রেণির গণিতের জন্য এখানে ক্লিক করো।

    বিবিধ-4
    আবিষ্কার ও আবিষ্কারক

    নংআবিষ্কারআবিষ্কারক
    141ক্যামেরাজর্জ ইস্টম্যান
    142চলচ্চিত্র যন্ত্রটমাস আলভা এডিসন।
    143টেলিভিশনজন বেয়ার্ড, ফার্নসওয়ার্থ
    144টেলিফোনআলেকজান্ডার গ্রাহাম বেল
    145টেলিগ্রাফস্যাম্যুয়েল এফ বি মোর্স
    146রেডিওজি মার্কনি
    147মাইক্রোফোনআলেকজান্ডার গ্রাহাম বেল
    148ঘড়িপিটার হেনলেইন
    149বার্নাররবার্ট বুনসেন
    150ডি ডি টি জিডলার
    151তড়িৎউইলিয়াম গিলবার্ট
    152তড়িত্ বিশ্লেষণফ্যারাডে
    153হাইড্রোজেন বোমাএডওয়ার্ড টেলর
    154নিউট্রন বােমাস্যামুয়েল টি কোহেন
    155পরমাণু চুল্লিএনরিকো ফার্মি
    156জেনারেটারপিসিওন্টি
    157GPS প্রযুক্তিইভান গেটিং , ব্রাডফোর্ট পারকিন্সন
    158এরোপ্লেনঅরভিল রাইট ও উইল্বার রাইট
    159হেলিকপ্টারইগর সিকোর্স্কি
    160ব্যাটারিআলেসান্দ্রো ভােন্টা

    North America-List of all Country, Capital and Currency

    চিকিৎসা বিজ্ঞান সংক্রান্ত
    আবিষ্কার ও আবিষ্কারক

    নংআবিষ্কারআবিষ্কারক
    161হেমিওপ্যাথিস্যাম্যুয়েল হ্যানিম্যান
    162ম্যালেরিয়া জীবাণুরোনাল্ড রস
    163পেনিসিলিনআলেকজান্ডার ফ্লেমিং
    164যক্ষার জীবাণুরবার্ট কচ
    165টাইফয়েডকার্ল এরার্থ
    166জলাতঙ্ক রোগলুই পাস্তুর
    167পোলিও টিকাজোনাস ই স্যাক
    168ক্লোরোফর্মসিম্পসন ও হ্যারিসন
    169স্টেথোস্কোপআর্থার লেয়ার্ড /রেন ল্যায়নেক
    170কলেরা বেসিলাসরবার্ট কচ
    171ডিপথেরিয়া প্রতিষেধক ভন ভেহরিং
    172ডিপথেরিয়া জীবাণু এডউইন ক্লেবস
    173কালাজ্বরের ঔষধউপেন্দ্রনাথ ব্রহ্মচারী
    174অ্যান্টিবায়োটিকআলকজান্ডার ফ্লেমিং
    175অ্যান্টিসেপটিকজোসেফ লিস্টার
    176বিসিজি টিকা (যক্ষার টিকা)।ক্যালসাট ও গুয়োচিন
    177হামের টিকাজন এনডারস এবং থমাস পিবলস
    178বসন্ত টিকাজেনার
    179হার্ট ট্রান্সপ্লান্টক্রিস্টি বান্টার্ড
    180ওপেন হার্টসার্জারীওয়ালটন লিলেহেন

    জীবন বিজ্ঞান সংক্রান্ত
    আবিষ্কার ও আবিষ্কারক

    নংআবিষ্কারআবিষ্কারক
    181জীবকোষরবার্ট হুক
    182 কৃত্রিম জিনহরগোবিন্দ খোরানা
    183বসন্তের টিকাএডওয়ার্ড জেনার
    184রক্ত সঞ্চালনউইলিয়াম হার্ভে
    185কোষরবার্ট হুক
    186ব্লাড গ্রুপল্যান্ড স্টেইনার
    187ক্রোমোজোমস্টাসবুর্গার
    188Rh ফ্যাক্টরকার্ল ল্যান্ডস্টেনার
    189কোষের নিউক্লিয়াসরবার্ট ব্রাউন
    190ব্যাক্টেরিয়ালিউয়েন হুক
    191ভাইরাসচার্ল আই ইকলুজ
    192পেনিসিলিনআলেক্স্যান্ডার ফ্লেমিং
    193ইনসুলিনস্যার ফ্রেডরিখ ব্যানটিং
    194ডাবল হেলিক্স DNAওয়াটসন ও ক্রিক।
    195ভিটামিন A,B,Dমেকুলাস
    196প্রোটোপ্লাজমহিউগো ফন মল।
    197বিবর্তনের সূত্রচার্লস ডারউইন
    198বংশগতির সূত্র  গ্রেগর জোহান মেন্ডেল।
    199যৌগিক অণুবীক্ষণ যন্ত্রকরনেলস ড্রাব্বল
    200অণুবীক্ষণ যন্ত্রলিউয়েন হুক
  • গঙ্গাসাগর-সব তীর্থ বার বার গঙ্গাসাগর একবার

    গঙ্গাসাগর-সব তীর্থ বার বার গঙ্গাসাগর একবার

    গঙ্গাসাগর-সব তীর্থ বার বার গঙ্গাসাগর একবার

    গঙ্গাসাগর-সব তীর্থ বার বার গঙ্গাসাগর একবার

    লেখকঃ শ্রী বিশ্বজিৎ দাস

    গঙ্গাসাগর মেলা দ্বিতীয় বৃহত্তম হিন্দু মেলা (কুম্ভমেলার পরে)। পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ দিকে সাগর দ্বীপের দক্ষিণ প্রান্তে যেখানে গঙ্গা নদী (হুগলি নদী) বঙ্গোপসাগরের সাথে মিলিত হয়েছে সেই স্থানকে বলা হয় গঙ্গাসাগর। যুগ যুগ ধরে পৌষ মাসের শেষে মক্রর সংক্রান্তিতে এই স্থানে অনুষ্ঠিত হয় গঙ্গাসাগর মেলা। পৌষ মাসের একেবারে শেষ মকর সংক্রান্তির দিনে কয়েক লক্ষ নরনারী প্রচণ্ড শীতের দাপট উপেক্ষা করে হাজির হয় এই সাগর সঙ্গমে। 
    কবে থেকে এই মেলা শুরু তার কোন প্রামাণ্য সন তারিখ পাওয়া যায় নি। ভারতের যত প্রাচীন পুঁথি, পুরান বা গ্রন্থ রয়েছে, তার প্রায় সবেতেই এর উল্লেখ আছে। গঙ্গাসাগর মেলা ভারতের কুম্ভ মেলার পর দ্বিতীয় বৃহত্তম ও অন্যতম প্রাচীন মেলা।
    গঙ্গা নদীর মর্ত্যে প্রত্যাবর্তন ও সগর রাজার পুত্রদের জীবন বিসর্জনের লোকগাঁথাকে ঘিরে গড়ে উঠেছে এই বিখ্যাত তীর্থস্থান গঙ্গাসাগর।
    এই দুর্গম স্নানে মহাঋষি কপিল মুনির আশ্রম ছিলো।

    ‘সব তীর্থ বারবার, গঙ্গাসাগর একবার’

    এই তীর্থস্থানটি এক সময়ে এতোই দুর্গম স্থাণে অবস্থিত ছিলো যে অন্য তীর্থের মতো সব সময় বা ইচ্ছা মতো যাওয়া সম্ভব হতো না। নদীনালা, বন জঙ্গল অতিক্রম করে যেতে হতো। তা ছাড়া চোর, ডাকাত ও জলদস্যুর ভয় তো ছিলই এমনকি বন্য জন্তুর আক্রমনে মৃত্যুও পর্যন্ত ঘটত। তাই বলা হতো ‘সব তীর্থ বারবার, গঙ্গা সাগর একবার।’ তবে বর্তমানে সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা মেলায় প্রাথমিক চিকিৎসা থেকে আরম্ভ করে বিভিন্ন সেবামূলক কর্মকান্ডে জড়িয়ে থাকেন। যোগাযোগ ব্যবস্থা আগের থেকে অনেক ভালো হওয়ায় এখন সহজেই কলকাতা থেকে দিনে দিনেই গঙ্গাসাগর ঘুরে আসা যায়।

    গঙ্গাসাগর মেলার অবস্থান

    পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ দিকে সাগর দ্বীপের দক্ষিণ প্রান্তে যেখানে গঙ্গা নদী (হুগলি নদী) বঙ্গোপসাগরের সাথে মিলিত হয়েছে সেই স্থানকে বলা হয় গঙ্গাসাগর। আদতে গঙ্গাসাগর মেলা হলো পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণে সাগর দ্বীপের দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত, কপিলমুনির আশ্রমে প্রতিবছর মকর সংক্রান্তিতে অনুষ্ঠিত একটি মেলা ও ধর্মীয় উৎসব। কলকাতা শহর থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই দ্বীপটি।

    গঙ্গাসাগর কিভাবে যাওয়া যায়?

    কলকাতা থেকে কাকদ্বীপের লট 8 হারউড পয়েন্টের দূরত্ব প্রায় 90 কিলোমিটার।কলকাতা থেকে সরাসরি বাস বা গাড়ি ভাড়া করে কাকদ্বীপের লট 8 হারউড পয়েন্টের জেটিতে যেতে হবে।ট্রেনে কাকদ্বীপ বা নামখানা পৌঁছেও বাসে বা রিকশায় হারউড পয়েন্ট ৮ নম্বর লঞ্চ ঘাটে পৌঁছনো যায়। সেখান থেকে ফেরি ভেসেলে গঙ্গা (মুড়িগঙ্গা) পেরিয়ে কচুবেড়িয়া।কচুবেড়িয়া থেকে সাগরের দূরত্ব 30 কিলোমিটার। এখান থেকে বাসে বা ট্রেকারে যেতে হবে। তবে মেলার সময় যাতায়াতের আরও বিশেষ ব্যবস্থা থাকে।
    বড়দিনের আগেই কলকাতা থেকে গঙ্গাসাগর পর্যন্ত ফেরি সার্ভিস শুরু হয়ে যাবে। বিলাসবহুল জাহাজে কলকাতা থেকে সরাসরি পৌঁছে যাবেন গঙ্গাসাগরে। রোজ সকাল ৭ টায় মিলেনিয়াম পার্কের ঘাট থেকে এই জাহাজ ছাড়বে। সাগরের কচুবেড়িয়া ঘাটে সকাল সাড়ে ১০টার মধ্যে পৌঁছে যাবে জাহাজ।
    এবার দক্ষিণ ২৪ পরগণার জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বয়স্ক, প্রতিবন্ধী, শিশু ও মহিলাদের মোক্ষলাভের বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে।অফলাইন ও অনলাইন দুই-এর মাধ্যমে বুক করা যাবে এই পরিষেবা। সাগর ভ্রমণের পরিষেবা শুরু হবে কলকাতার বাবুঘাট থেকে। যাত্রীদের সমগ্র গঙ্গাসাগর ভ্রমণ করিয়ে যথাস্থানে ফিরিয়ে আনবে।

    গঙ্গাসাগরে থাকার ব্যবস্থা

    গঙ্গাসাগরে থাকার জন্য নানান ধর্মশালা ও পান্থনিবাস আছে। এ ছাড়া পি ডব্লু ডি, সেচ দফতরের ও পাবলিক হেলথ ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বাংলো ও পঞ্চায়েতের যাত্রীনিবাস আছে।

    গঙ্গাসাগর স্নানের দিনক্ষন

    শাহি স্নান সঠিক মুহূর্তে গঙ্গাসাগরে স্নান করলে সমস্ত অর্জিত পাপ ধ্বংস হয় এবং মোক্ষ অর্জিত হয়, একেই শাহি স্নান বলে।

    সময়: ৮ই জানুয়ারি থেকে ১৭ই জানুয়ারি।

    গঙ্গাসাগরে পুণ্য স্নানের সময়

    জন্ম ও মৃত্যুর যে অনন্তচক্র তার থেকে মুক্তিই মোক্ষ। বলা হয়, মকরসংক্রান্তির মহালগ্নে সাগরসঙ্গমের পবিত্র জলে স্নান করলে মানুষের মোক্ষ প্রাপ্তি হয়। সেই কারণে মোক্ষ প্রাপ্তির জন্য যুগ যুগ ধরে মকর সংক্রান্তির দিন লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থী গঙ্গাসাগরের পবিত্র জলে স্নান করেন।
    সময়: ১৫ জানুয়ারি ৯টা ১৩ মিনিটে হচ্ছে মকর সংক্রান্তি।
    পুণ্যস্নানের সময় ১৫ জানুয়ারি রাত ১২টা ১৩ মিনিট থেকে ১৬ জানুয়ারি বেলা ১২টা ১৩ মিনিট পর্যন্ত।
    এবছর গঙ্গাসাগরে পুণ্য স্নানের সময় ২৪ ঘন্টা
    মেলায় ই-স্নানের ব্যবস্থাও থাকছে। অর্থাৎ দেশের যে কোনও প্রান্ত থেকে অনলাইনে আবেদন করা হলে, বাড়িতে পৌঁছে যাবে গঙ্গাসাগরের পবিত্র জল।

    দ্বীপ ও মন্দিরের ইতিহাস এবং জনশ্রুতি

    বঙ্গোপসাগরের উপকূলে সুন্দরবন অঞ্চলের এই দ্বীপটির প্রাচীন নাম শ্বেতদ্বীপ। যুগ যুগ ধরে পৌষ মাসের শেষে মক্রর সংক্রান্তিতে এই স্থানে অনুষ্ঠিত হয় গঙ্গাসাগর মেলা। এক কালে সাগর দ্বীপ ছিলো ১৭০ বর্গ মাইলের এক সমৃদ্ধ জনপথ। ১৬৮৮ সালে সামুদ্রিক ঝড় ও জলচছাসে প্রায় দু লক্ষ মানুষ সমুদ্রে ভেসে যায়। সেই থেকে দ্বীপটি বহুকাল জনহীন হয়ে পড়ে।
    জনশ্রুতি অনুযায়ী মূল কপিলমুনির আশ্রম সমুদ্র গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ৪৩০ খ্রিস্টাব্দে রানী সত্যভামা প্রথম কপিল মুনির মন্দিরটি তৈরী করেন। সেই মন্দিরটি সমুদ্রগর্ভে বিলীন হয়ে যাবার পর আরও ছয়টি মন্দির তৈরী হয় যা পরে বিলীন হয়ে যায়। তারপরে নতুনভাবে বর্তমান মন্দিরটি আদি মন্দির স্থল থেকে প্রায় ২ কিমি দূরে স্থাপন করা হয়েছে এবং এটিও বহু প্রাচীন, বহুবার সংস্কার করা হয়েছে।।
    রামায়ন, বালকান্ড, ৪৩ অধ্যায় মহাভারতের বনপর্বে, পালবংশের রাজা দেবপালের একটি লিপিতে তার গঙ্গাসাগর সঙ্গমে ধর্মানুষ্ঠান করার কথা উল্লেখ আছে।

    ভারতীয় বৈদিক সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গঙ্গাসাগরের মাহাত্ম

    ভারতীয় বৈদিক সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গঙ্গাসাগর সঙ্গম বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ মহাতীর্থ। অতি প্রাচীন কাল থেকেই আধ্যাত্মিক পথের সাধক, মুনি ঋষি, সাধুসন্তু গন গঙ্গার তটভূমিতে আশ্রয় নিয়ে তারা তাদের পরম প্রাপ্তি লাভ করেছেন। গঙ্গাতীরে যাগ -যজ্ঞ, শাস্ত্র পাঠ, দান, তপস্যা, জপ, শ্রাদ্ধকৃত্য বা দেবতা পূজন করলে তা কোটিগুণ ফল প্রদান করে। বিশ্বাস করা হয় যে এই দিনে গঙ্গাসাগরে স্নান করলে ১০০টি অশ্বমেধ যজ্ঞের সমান পুণ্য পাওয়া যায়। মহর্ষি কপিলমুনির সাধনার পাদপীঠ এই গঙ্গাসাগর সঙ্গম। গঙ্গাসাগর সঙ্গম মহা তীর্থ। একবার বা একদিনের জন্য নয়, গঙ্গাসাগর সঙ্গম নিত্য মহা তীর্থ।

    গঙ্গাসাগর স্নানের পৌরাণিক মাহাত্ম্য

    সব তীর্থ বার বার গঙ্গাসাগর একবার । পৌষ সংক্রান্তি তিথির পুন্য লগ্নে পবিত্র সাগর তীর্থে মহাস্নানে ভারতবর্ষের সুপ্রাচীন অতিলৌকিক সনাতন সংস্কৃতি পূর্ণতা লাভ করেছে আবহমান কাল ধরে।
    ব্রহ্মপুরান , বিষ্ণুপুরান, শ্রীমদ্ভগবদগীতা ইত্যাদি আদি গ্রন্থে গঙ্গা মাহাত্ম্য এবং গঙ্গাসাগরের উৎপত্তি বর্নিত হয়েছে। স্বসাগর পৃথিবীর অধীশ্বর সূর্য বংশীয় মহারাজা সগরের উপাখ্যান এর মূল উপজীব্য। ষাটহাজার পুত্রের জনক মহারাজা সগর উদ্যোগী হয়েছিলেন অশ্বমেধ যজ্ঞের যা তৎকালীন প্রেক্ষাপটে অতিমানবীয় ক্রিয়ার প্রতীক, তিনি একে একে নিরানব্বইটি যজ্ঞ সম্পন্ন করেন কিন্তু শততম যজ্ঞ সম্পন্নকালে বাধা সৃষ্টি করেন দেবরাজ ইন্দ্র, কারন শততম অশ্বমেধ যজ্ঞের শাস্ত্র মতে অর্থ ইন্দ্র পদ লাভ, যা স্বয়ং দেবরাজের গৌরবকে ভুলুন্ঠিত করতে যথেষ্ট ছিল এবং তার ভয়ও ছিল যে স্বর্গে তার একচ্ছত্র আধিপত্য না শেষ হয়ে যায়। ফলে ইর্ষান্বিত দেবরাজ ইন্দ্র যজ্ঞনুষ্ঠান পন্ড করতে শততম যজ্ঞের মন্ত্রপূত অশ্ব গোপনে কপিল মুনির আশ্রমে লুকিয়ে রাখেন।
    কপিলমুনি দেবধি নন্দন, মহর্ষি কর্দন এবং ভগবান মনুর কন্যা বিভূতির সন্তান। তিনি ছিলেন ঐশ্বরিক ক্ষমতার অধিকারী ও মহাজ্ঞানী, তার সাংখ্য দর্শন জগদ্বিখ্যাত। তিনি এই সাগরদ্বীপে নিজ আশ্রম প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যেখানে ইন্দ্র চক্রান্ত করে অশ্বমেধ যজ্ঞের অশ্ব লুকিয়ে রাখেন।

    গঙ্গাসাগর স্নানের পৌরাণিক মাহাত্ম্য

    মহারাজা সগর যখন জানতে পারলেন যে তার অশ্ব নিরুদ্দেশ, তিনি তখন তার ষাট হাজার পুত্রকে প্রেরন করলেন। বহু অন্বেষন শেষে কপিলমুনির আশ্রমে খুঁজে পাওয়া যায় অশ্বমেধের ঘোড়া 🐎। কিন্তু নিয়তি হয়তো কিছু আলাদাই বিধি রচনা করেছিল। সগর পুত্রদের মনে হলো এই সাধুই অশ্বমেধের ঘোড়া চুরি করবার দুঃসাহস দেখিয়েছে। যে ঘটনার বিন্দু বিসর্গ জানতেন না মহামুনি। ফলে বহু মিথ্যা অভিযোগে, অপমানে, লাঞ্ছনায় কটু কথায় জর্জরিত করা হয় কপিলমুনিকে । সহ্যের সীমা অতিক্রম করতে থাকায় ভগবান কপিল দেব ভয়াবহ রোষানলে মহারাজা সগরের ষাট হাজার পুত্রকে ভষ্মিভূত অঙ্গারে পরিনত করেন।
    এদিকে ঘটনায় ব্যাথিত মহারাজা সগর জীবিত অন্যতম পুত্র অসামঞ্জস্য এবং তার পুত্র অংশুমানকে পাঠালেন ঘটনাস্থলে। নিদারুণ ব্যাথিত হৃদয়ে ভগবান কপিলমুনির নিকট ষাট হাজার পুত্রের জীবন ভিক্ষা করলে অসমর্থতা প্রকাশ করেন ভগবান কপিলমুনি এবং এর নিরসনে একমাত্র উপায় প্রদান করেন যে একমাত্র শ্রী শ্রী নারায়নের আরাধনায় পরম মোক্ষদায়িনী গঙ্গার পবিত্র সলিলসুধার স্পর্শে জীবন ফিরে পাবে ষাট হাজার সগর সন্তান।

    গঙ্গাসাগর স্নানের পৌরাণিক মাহাত্ম্য

    নির্দেশ মতো মহারাজা সগর এবং অংশুমান ক্রমান্বয়ে কঠোর তপস্যায় রত হলেন, কিন্তু উদ্দেশ্যে সিদ্ধ হলো না। শেষে মহারাজা সগর সূর্য বংশীয় অন্যতম মহান নৃপতি পরম বৈষ্ণব এবং শ্রীকৃষ্ণের পরম ভক্ত মহারাজা ভগীরথের স্মরনাপন্ন হলেন। মহারাজা ভগীরথ মর্তে গঙ্গা আনায়নের জন্য কঠোর সাধনায় লীন হলেন। অপরিসীম ধৈর্য্যে কঠোর তপশ্চর্য্য শেষে শ্রী শ্রী ভগবানের হৃদয় বিগলিত হলো। শ্রী শ্রী ভগবান স্বয়ং গঙ্গা দেবীকে নিয়ে ভগীরথের নিকট উপস্থিত হলেন। ভগীরথের নিকট সমস্ত ঘটনার বিবরণ শুনলেন শ্রী শ্রী মধুসূদন কিন্তু বাধ সাধলেন দেবী গঙ্গা। গঙ্গা দেবী নিজের পবিত্র সলিলসুধায় মর্তের পাপ নিতে রাজি হলেন না। ভগবান আশ্বস্ত করলেন, বললেন যে মর্তের সমস্ত পাপ তোমার সলিলে সমাহিত হলেও পরম ভক্ত ভগীরথের অবগাহনে তা পবিত্রই থাকবে। গঙ্গা রাজি হলেও অপর সমস্যা ছিল তার প্রবল জলধারা, যা ত্রিভুবন প্লাবিত করার জন্য সক্ষম এবং মর্তে আগমনে তা প্রলয় ঘটাবে। কিন্তু এখানেও কল্পতরু হলেন দেবাদিদেব মহাদেব, তিনি নিজের জটায় ধারন করলেন গঙ্গার তীব্র জলধারা। জটা সিঞ্চিত গঙ্গা এরপর ভগীরথের পথ অনুসরণ করলেন। পবিত্র শঙ্খধ্বনিতে ভগীরথের পশ্চাতে ধাবিত হলো গঙ্গা। ত্রিভুবনে মঙ্গলধ্বনি ধ্বনিত হলো।
    পবিত্র গঙ্গাজলের স্পর্শে সগর সন্তানেরা মুক্ত হলেন ।

    বৈতরণী পার

    গরুড় পুরাণের ৪৭তম অধ্যায়ে বৈতরণী নদীর নাম পাওয়া যায়। এই নদী জীবজগৎ ও মরজগতের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করে। গরুর লেজ ধরে এই নদী পার হওয়া যায়। পুরাণ অনুযায়ী মৃতের আত্মারা এই বৈতরণী নদী পার করেই স্বর্গে পৌঁছন আর যারা এই নদী পেরোতে পারেন না তাদের আত্মা নরকের অতল গহ্বরে পতিত হয়। কিন্তু সেইসব অসহায় আত্মা গরুর লেজ ধরে এই নদী পার হতে পারে। সেইকারণে মকর সংক্রান্তির দিন, অসংখ্য মানুষ সাগর পাড়ে ভিড় করেন গরুর লেজ ধরে ‘বৈতরণী পার’ আচার পালন করবার জন্য। 

    গঙ্গাসাগরের মূল আকর্ষণ – কপিলমুনির মন্দির

    গঙ্গাসাগর মেলার মূল আকর্ষণ কপিলমুনির মন্দির। শ্রী মন্দিরে কপিল দেব পদ্মাসনে যোগারূঢ় অবস্থায় উপবিষ্ট। তার বাম হাতে কমন্ডুল, ডান হাতে জপমালা, শিরোদেশে পঞ্চনাগ ছত্রবৎ অবস্থিত। শ্রী কপিল দেবের বিগ্রহের দক্ষিনে শ্রী গঙ্গাদেবীর বিগ্রহ। ইনি চতুর্ভুজা এবং মকর বাহন। শ্রী হস্ত সমূহে শঙ্খ, পদ্ম, অমৃত কুম্ভ ও বরাভয়। সম্মুখে মহাতাপস ভগীরথ। কপিল দেবের বিগ্রহের বামদিকে সগর রাজা ভক্তি বিনম্র চিত্তে করজোড়ে অবস্থানরত। এখানে আছে ভগীরথের কোলে মা গঙ্গা, বীর হনুমান, সিংহবাহিনী, বিশালক্ষী ও ইন্দ্রদেব। এই গঙ্গাসাগর সঙ্গমে মকর সংক্রান্তি উপলক্ষে কয়েক লক্ষ পূন্যার্থী মহা স্নান করেন।

    গঙ্গাসাগরের বিশেষ আকর্ষণ – হিমালয়ের সাধু সন্তু নাগা সন্ন্যাসী

    পরমার্থের টানে এক তীর্থ থেকে আরেক তীর্থে ছুটে চলা। সাধক জীবনে এটাই দস্তুর। পুণ্য অর্জনের আশায় রাজ্যের পাশাপাশি অন্যান্য জায়গা থেকেও সাধু-সন্তরা আসেন কপিল মুনির আশ্রম চত্বরে। হিমালয়ের সাধু সন্তু এই মেলার বিশেষ আকর্ষণ। আসেন নাগা সন্ন্যাসীরাও। তীব্র শীত উপেক্ষা করে কেবল ছাই ভষ্ম মেখে অনাবৃত অবস্থায় তাঁরা তাঁদের ধর্মীয় নিয়ম পালন করে আসছেন। নাগা সাধুরা কপিল মুনির মন্দিরের পাশের ডেরাতে জমিয়ে বসে ভক্তদের দর্শন দেন। ভেসে আসে গাঁজা, ধূপ, ধুনোর পরিচিত সেই গন্ধ। সাধারণ পুণ্যার্থীরা কপিল মুনির মন্দিরে পুজো দেওয়ার পর নাগাদের আখড়ায় প্রণাম ঠুকে যান। আগামী কয়েক দিন নাগাদের এই ডেরা হয়ে উঠবে পুণ্যার্থীদের অন্যতম গন্তব্য। বাবুঘাট থেকে ডায়মন্ড হারবার হয়ে হারউড পয়েন্ট পর্যন্ত গঙ্গাসাগর লেখা বাসগুলিতে চোখ পড়লেই দেখা মিলবে সেই পুণ্যার্থীদের। শুধুমাত্র পুণ্য অর্জনে। এ এক সুপ্রাচীন পরম্পরা।

    মকর সংক্রান্তি কি?

    সংক্রান্তির অর্থ গমন করা। সূর্য এদিন নিজের কক্ষপথ থেকে মকর রাশিতে প্রবেশ বা সংক্রমিত হয়। তাই এই দিনটিকে মকর সংক্রান্তি বলা হয়। বলা হয়, সংক্রান্তি দেবী নাকি এই দিনই শঙ্করাসুর নামের দানবকে বধ করেন। সূর্য এদিন মকর রাশিতে গমন করে বলে, এই দিনটিকে শুভ বলে ধরা হয়। ১২ টি রাশির এরকম মোট ১২ টি সংক্রান্তি আছে।

    Utube_comptech_home
    দশম শ্রেণীর ভৌত বিজ্ঞান এবং জীবন বিজ্ঞানের বিভিন্ন অধ্যায়ের উপর ভিডিও টিউটোরিয়াল পেতে আমাদের You Tube চ্যানেল ফলো করুন

    মকর সংক্রান্তিতে বাঙালীর বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠান

    এই দিনে বাঙালীরা বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে। তার মধ্যে পিঠে তৈরী করে খাওয়া ও ঘুড়ি ওড়ানো অন্যতম। আগেকার দিনে পটকা ফুটিয়ে বা ফানুস উড়িয়ে উদযাপন করা হতো। বীরভূম জেলার কেন্দুলী গ্রামে ঐতিহ্যমন্ডিত জয়দেবের মেলা এই দিনেই অনুষ্ঠিত হয়।

    পঞ্চরত্ন ও সূতা প্রদান গঙ্গাসাগরের অপর একটি ধর্মীয আচার হল, পঞ্চরত্ন ও সূতা প্রদান। এই প্রথা অনুযায়ী, পঞ্চরত্ন ও পবিত্র সূতা নদীর খাতে ভাসানো হয়, যা নদীর স্রোতে সমুদ্রে গিয়ে মেশে। এই সম্পূর্ন প্রথাটি ত্যাগের প্রতীক।

    দেশভেদে মকর সংক্রান্তিতে পালিত বিভিন্ন লোকউৎসব

    এই দিন ভারতের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশে নানাভাবে উদযাপিত হয়। নেপালে এই দিবস মাঘি নামে, থাইল্যান্ডে সংক্রান, লাওসে পি মা লাও, মিয়ানমারে থিং ইয়ান ও কম্বোডিয়ায় মহাসংক্রান নামে উদযাপিত হয়। দেশ ভেদে এর নামের সাথে উৎসবের ধরনের পার্থক্য থাকলেও উপলক্ষ্য কিন্তু এক।

    গঙ্গার প্রণাম মন্ত্র

    গঙ্গাসাগর জাতপাত ভুলে, সমস্ত সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে ঐক্যের এক ভারতের সূচনার আঁতুড়ঘর।
    সর্ব্বং কৃতযুগে পুণ্যং, ত্রেতায়াং পুষ্করং স্মৃতম।
    দ্বাপরে তু কুরুক্ষেত্রং গঙ্গা কলিযুগে স্মৃতা।।
    গঙ্গার প্রণাম মন্ত্র
    সদ্যঃ পাতকসংহন্ত্রী সদ্যোদুঃখবিনাশিনী।
    সুখদা মোক্ষদা গঙ্গা গঙ্গৈব পরমা গতিঃ।।
    অর্থঃ যিনি তত্ক্ষণাৎ পাপ হরণ করেন, দুঃখ বিনাশ করেন, সুখদাত্রী মোক্ষদাত্রী গঙ্গা, সেই গঙ্গাই আমার পরম গতি।

error: Content is protected !!
Verified by MonsterInsights