সংরক্ষিত জীবমণ্ডল বা বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ (Biosphere Reserve) হল এমন একটি সংরক্ষিত এলাকা যেখানে উদ্ভিদ এবং প্রাণীকে তার নিজস্ব পরিবেশে তাদের জীবনধারা অনুসারে সুরক্ষিত রেখে সেই এলাকার জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করা হয়, যেখানে মানুষকেও ওই পরিবেশের অংশ ধরা হয়। যেমন – পশ্চিমবঙ্গের সুন্দরবন বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ। বর্তমানে ভারতে মোট ১৮-টি বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ বা সংরক্ষিত জীবমণ্ডল আছে। এই ১৮-টি বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভের মধ্যে ১২-টি ইউনেস্কোর ম্যান এন্ড বায়োস্ফিয়ার (MAB) প্রোগ্রামের অন্তর্গত ওয়ার্ল্ড নেটওয়ার্ক অফ বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভের অন্তর্ভুক্ত। বিশ্বে প্রথম বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ ১৯৭৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
1. PBR-এর full form কী? ▶️ PBRএর full form হলো People’s Biodiversity Register 2. WNBR-এর full form কী? ▶️ WNBR-এর full form হল “World Network of Biosphere Reserves” 3. পশ্চিমঘাট পর্বতে কয়টি বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ আছে? ▶️পশ্চিমঘাট পর্বতে তিনটি(নীলগিরি বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ, অগস্ত্যমালাই বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ, শিমলিপাল বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ) বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ আছে।
4. MAB এর সদর দপ্তর কোথায় অবস্থিত? ▶️ MAB এর সদর দপ্তর প্যারিসে অবস্থিত। 5. ভারতের নবীনতম জীবমণ্ডল সংরক্ষণ অঞ্চল কোনটি? ▶️ ভারতের নবীনতম জীবমণ্ডল সংরক্ষণ অঞ্চল হলো মধ্যপ্রদেশের পান্না জীবমণ্ডল সংরক্ষণ, যা 2020 সালে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। 6. ভারতে কয়টি জীবমন্ডল সংরক্ষণ অঞ্চল আছে? ▶️ ভারতে মোট 18টি জীবমণ্ডল সংরক্ষণ অঞ্চল আছে।
7. ভারতের প্রথম বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ কোনটি? ▶️ ভারতের প্রথম বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ নীলগিরি বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ। 8. ভারতের ১৮টি বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভের মধ্যে কয়টি ইউনেস্কোর ম্যান অ্যান্ড দ্য বায়োস্ফিয়ার (MAB) প্রোগ্রামের অধীনে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত? ▶️ 12টি ইউনেস্কোর ম্যান অ্যান্ড দ্য বায়োস্ফিয়ার (MAB) প্রোগ্রামের অধীনে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। 9. বিশ্বে প্রথম বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ কবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল? ▶️ বিশ্বে প্রথম বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ ১৯৭৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
ভারতের ১৮টি বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভের বিবরণ:
১. সুন্দরবন বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভঃ একটি পশ্চিমবঙ্গের একমাত্র বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ। এটি ভারতের তৃতীয় বৃহত্তম বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ। সুন্দরবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংরক্ষিত প্রাণী হল বাঘ যা রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার নামে বিখ্যাত। এখানেই রয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বনভূমি । সুন্দরবন বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ আয়তনের দিক থেকে তৃতীয় বৃহত্তম রিজার্ভ। ২. কাঞ্চনজঙ্ঘা বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভঃ এটি সিকিমে অবস্থিত। পৃথিবীর তৃতীয় সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘাকে ঘিরে এই বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ বিস্তৃত। জেমু হিমবাহসহ মোট ১৮টি হিমবাহ এই বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভের মধ্যে রয়েছে। সিকিমের অন্যতম পবিত্র মঠ, থোলুং মঠ এই বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভে অবস্থিত। ভারতের নবীনতম বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ হলো কাঞ্চনজঙ্ঘা বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ, যা ২০১৮ সালে স্বীকৃতি লাভ করে।
৩.মানস বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভঃ এখানে পাঁচটি জাতীয় উদ্যান এবং আঠারোটি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য রয়েছে যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো কাজিরাঙ্গা জাতীয় উদ্যান। এটি আসামে হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত। ভারতের নয়টি বাঘ সংরক্ষণ অভয়ারণ্যের মধ্যে একটি বাঘ সংরক্ষণ অভয়ারণ্য এখানে রয়েছে। রিজার্ভের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত মানস নদীর নামে এই রিজার্ভের নামকরণ করা হয়েছে। ৪.ডিব্রু-সাইখোয়া বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভঃ আসামে অবস্থিত দ্বিতীয় বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ হলো ডিব্রু-সাইখোয়া বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ। এটি ব্রহ্মপুত্র, ডিব্রু এবং লোহিত নদীর মিলনস্থলে অবস্থিত । এই রিজার্ভের উল্লেখযোগ্য প্রাণী হলো বুনো ঘোড়া। মিসিং, ডুয়োরিস ইত্যাদি আদিবাসী উপজাতি সম্প্রদায়ের আবাসস্থল এই ডিব্রু-সাইখোয়া বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ। এটি ভারতের সবচেয়ে ছোট বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ।
দিহাং-দিবাং বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ
৫.দিহাং-দিবাং বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভঃ এই বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভটি অরুণাচল প্রদেশে অবস্থিত। দিহাং (যা সিয়াং বা ব্রহ্মপুত্র নামেও পরিচিত) ও দিবাং নামে দুটি নদীর নামানুসারে এই রিজার্ভটির নামকরণ করা হয়েছে। ৬.শিমলিপাল বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভঃ শিমলিপাল বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ ওড়িশার ময়ূরভঞ্জ জেলায় অবস্থিত। সিমলিপালে প্রচুর পরিমাণে লাল রেশম তুলা গাছ জন্মে যা শিমুল গাছ নামে পরিচিত। এর থেকেই এই জাতীয় উদ্যানের নামকরণ করা হয়েছে। শিমলিপাল বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভের মধ্যে রয়েছে ময়ূরভঞ্জ এলিফ্যান্ট রিজার্ভ, সিমিলিপাল টাইগার রিজার্ভ, হাদগড় বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য, কুলডিহা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য।
৭. পাঁচমারি বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভঃ ২০০৯ সালে ইউনেস্কো এটিকে জীবমণ্ডল সংরক্ষণাগার হিসেবে ঘোষণা করে। এটি মধ্যপ্রদেশের সাতপুরা পর্বতমালায় অবস্থিত। এখানে পাচমাড়ি অভয়ারণ্য, বোরি অভয়ারণ্য এবং সাতপুরা জাতীয় উদ্যান রয়েছে। পাচমারি বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ হলো ধূপগড়। ৮.নকরেক বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভঃ এই বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভটি মেঘালয়ের গারো পাহাড়ে অবস্থিত। এটি ইন্দো-বার্মা জীববৈচিত্র হটস্পটের মধ্যে অবস্থিত। ভারতে পাওয়া একমাত্র এপ প্রজাতি ওয়েস্টার্ন হুলক গিবন এখানে দেখা যায়।
৯.মান্নার উপসাগর বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভঃ এটি বিশ্বের বৃহত্তম সামুদ্রিক বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ এবং ভারতের প্রথম সামুদ্রিক বায়োস্পিয়ার রিজার্ভ। এটি তামিলনাড়ুতে অবস্থিত। এটি দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রথম সামুদ্রিক জীবমন্ডল সংরক্ষণাগার। মান্নার উপসাগর ভারত মহাসাগরের একটি অংশ। বন্যার উপসাগর বিভিন্ন ধরনের বিপন্ন সামুদ্রিক প্রাণী যেমন ডুগং (সামুদ্রিক গরু) ডলফিন ইত্যাদির আশ্রয়স্থল। একটি গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান রামেশ্বরম যা রামানাথস্বামী মন্দিরের জন্য বিখ্যাত, এটি এখানকার পাম্বান দ্বীপে অবস্থিত। ১০.কচ্ছের রন বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভঃ কচ্ছের রন বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ গুজরাটে অবস্থিত। এটি ভারতের বৃহত্তম বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ। এই অঞ্চলটি বিপন্ন ভারতীয় বন্য গাধার আশ্রয়স্থল। কচ্ছের রন বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভগুজরাটে অবস্থিত। কচ্ছ বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ মূলত গ্রেট রান অফ কচ্ছ (GRK) এবং লিটল রান অফ কচ্ছ (LRK) এই দুটি প্রধান বাস্তুতন্ত্রের সমন্বয়ে গঠিত। কচ্ছের রনের একটি উল্লেখযোগ্য উপজাতি হলো রাবারি উপজাতি।
নীলগিরি বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ
১১.নীলগিরি বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভঃ তামিলনাড়ু, কেরালা এবং কর্ণাটকের কিছু অংশ জুড়ে বিস্তৃত রয়েছে নীলগিরি বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ। এটি ভারতের প্রথম জীবমণ্ডল সংরক্ষণাগার যা ১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এই বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভটি দক্ষিণ ভারতের পশ্চিমঘাট এবং নীলগিরি পাহাড়শ্রেণীতে অবস্থিত। এটি ভারতের বৃহত্তম সংরক্ষিত বনাঞ্চল। এই সংরক্ষিত অঞ্চলে ওয়ানাড বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য, মুদুমালাই বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য, বান্দিপুর জাতীয় উদ্যান রয়েছে। ১২.নন্দাদেবী বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভঃ নন্দাদেবী বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ উত্তরাখণ্ডের গাড়োয়াল হিমালয় পর্বতমালায় অবস্থিত। নন্দা দেবী পর্বত শৃঙ্গের (ভারতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্বত) নামে এই বায়োসফিয়ার রিজার্ভের নামকরণ করা হয়েছে। এখানেই রয়েছে নন্দা দেবী জাতীয় উদ্যান এবং ভ্যালি অফ ফ্লাওয়ার্স জাতীয় উদ্যান ।
১৩. গ্রেট নিকোবর বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভঃ আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে গ্রেট নিকোবর বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ অবস্থিত। এটি নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের বৃহত্তম দ্বীপ গ্রেট নিকোবর দ্বীপের প্রায় 85% জুড়ে অবস্থিত। ক্যাম্পবেল বে জাতীয় উদ্যান এবং গ্যালাথিয়া জাতীয় উদ্যান এখানে রয়েছে। আদিবাসী নিকোবারিজ এবং শোম্পেন জনগণ এই অঞ্চল বসবাস করে। একটি পূর্ব ভারত মহাসাগরে অবস্থিত। ১৪. অগস্ত্যমালাই বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভঃ তামিলনাড়ু ও কেরালা জুড়ে বিস্তৃত দ্বিতীয় বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ হলো অগস্ত্যমালাই বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ। এটি পশ্চিমঘাট পর্বতমালার দক্ষিণতম প্রান্তে অবস্থিত । এখানেই রয়েছে কেরালার পেরিয়ার টাইগার রিজার্ভ, তামিলনাড়ুর শ্রীভিলিপুথুর গ্রিজল্ড কাঠবিড়ালি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য এবং কালাক্কাদ-মুন্দনথুরাই টাইগার রিজার্ভ ইত্যাদি। অগস্ত্যমালাই বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে পেরিয়ার নদী।
১৫.আচনাকমার-অমরকন্টক বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভঃ আচনাকমার-অমরকন্টক বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ মধ্যপ্রদেশ এবং ছত্তিশগড় রাজ্য জুড়ে বিস্তৃত। এটি আরব সাগর এবং বঙ্গোপসাগরে প্রবাহিত নদীগুলিকে পৃথক করেছে । নর্মদা, জোহিলা এবং শোন নদী এখান থেকে উৎপন্ন হয়েছে। এটি মধ্যপ্রদেশের দ্বিতীয় এবং ছত্রিশগড়ের প্রথম জীব মণ্ডল সংরক্ষণাগার। ১৬. কোল্ড ডেসার্ট বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভঃ এটি হিমাচল প্রদেশের পশ্চিম হিমালয়ে অবস্থিত। এর মধ্যে দিয়ে স্পিতি নদী প্রবাহিত হয়েছে। বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভটির মধ্যে রয়েছে পিন ভ্যালি জাতীয় উদ্যান , চন্দ্রতাল এবং সারচু বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য। এটি ভারতের নবীনতম জীবমণ্ডল সংরক্ষণ অঞ্চল।
ভারতের বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ তালিকা
ভারতের আঠারোটি বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভের মধ্যে ১২ টি ইউনেস্কো ম্যান অ্যান্ড দ্য বায়োস্ফিয়ার (MAB) প্রোগ্রাম তালিকার উপর ভিত্তি করে ওয়ার্ল্ড নেটওয়ার্ক অফ বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভের একটি অংশ।
2025 PHYSICAL SCIENCE *For Regular and External Candidates) Time – Three Hours Fifteen Minutes (First FIFTEEN minutes for reading the question paper only)
Full Marks – 90 – For Regular Candidates 100 – For External Candidates
Special credit will be given for answers which are brief and to the point. Marks will be deducted for spelling mistakes, untidliness and bad handwriting কেবলমাত্র বহিরাগত পরীক্ষার্থীদের ‘ঙ’ বিভাগের প্রশ্নগুলির উত্তর দিতে হবে। প্রান্তিক সংখ্যাগুলি প্রশ্নের পূর্ণমান নির্দেশ করছে।
বিভাগ- ক
১। বহু বিকল্প ভিত্তিক প্রশ্ন। প্রতিটি প্রশ্নের নীচে চারটি করে বিকল্প উত্তর দেওয়া আছে। যেটি ঠিক সেটি লেখো: ১×১৫=১৫
১.১০ S.T.P. তে 22 গ্রাম CO2 -এর আয়তন হল [C=12, O =16] : (a) 22.4 লিটার (b) 11.2 লিটার (c) 2.24 লিটার (d) 1.12 লিটার Ans: (b) 11.2 লিটার [CO2 -এর আনবিক ভর = 12 + 2×16 = 44 S.T.P. তে , 44 গ্রাম CO2 -এর আয়তন 22.4 লিটার 1 গ্রাম CO2 -এর আয়তন 22.4/44 লিটার 22 গ্রাম CO2 -এর আয়তন 22.4/44×22 = 11.2 লিটার ]
১.১১ 10 গ্রাম ক্যালসিয়াম কার্বোনেটকে তীব্র উত্তপ্ত করালে, কত গ্রাম ক্যালসিয়াম অক্সাইড পাওয়া যাবে? ধরে নাও সকল ক্যালসিয়াম কার্বনেট সম্পূর্ণ বিয়োজিত হয়েছে। [Ca=40, C=12, O = 16]। (a) 4.4 গ্রাম (b) 5.6 গ্রাম (c) 10 গ্রাম (d) 100 গ্রাম Ans: (b) 5.6 গ্রাম [CaCO3 = CaO + CO2 CaCO3 -এর আনবিক ভর = 40+12+3×16 = 52+48 = 100 CaO -এর আনবিক ভর = 40+16 = 56 100 গ্রাম CaCO3 থেকে পাওয়া যায় 56 গ্রাম CaO 1 গ্রাম CaCO3 থেকে পাওয়া যায় 56/100 গ্রাম CaO 10 গ্রাম CaCO3 থেকে পাওয়া যায় 56/100×10 = 5.6 গ্রাম CaO]
১.১২ তাপ পরিবাহিতাঙ্ক নির্ভর করে – (a) পরিবাহীর দুই প্রান্তের তাপমাত্রার পার্থক্যের উপর (b) পরিবাহীর উপাদানের প্রকৃতির উপর (c) পরিবাহীর দৈর্ঘ্যের উপর (d) পরিবাহীর প্রস্থছেদের ক্ষেত্রফলের উপর Ans: (b) পরিবাহীর উপাদানের প্রকৃতির উপর
১,১৩ আলোর প্রতিসরণের সময় নীচের কোন রাশিটি অপরিবর্তিত থাকে? (a) গতিবেগ (b) বিস্তার (c) কম্পাঙ্ক (d) তরঙ্গদৈর্ঘ্য Ans: (c) কম্পাঙ্ক ১.১৪ কোন প্রকার দর্পণে অসদ, ছোট এবং সমশীর্ষ প্রতিবিম্ব গঠিত হয়? (a) সমতল দর্পণ (b) অবতল দর্পণ (c) উত্তল দর্পণ (d) অধিবৃত্তাকার দর্পণ Ans: (c) উত্তল দর্পণ ১.১৫ নীচের কোন এককটি তড়িৎশক্তির একক? (a) ওয়াট (b) ওহম (c) কিলোওয়াট ঘণ্টা (d) ভোল্ট Ans: (c) কিলোওয়াট ঘণ্টা
বিভাগ- খ
২। নিম্নলিখিত প্রশ্নগুলির উত্তর দাও (বিকল্প প্রশ্নগুলি লাক্ষণীয়):
২.১ তেজস্ক্রিয়তার S.1. এককটি লেখো। Ans: তেজস্ক্রিয়তার S.1. একক হল বেকারেল। অথবা 23592U থেকে একটি β – কণা নির্গত হলে, পারমাণবিক সংখ্যার কী পরিবর্তন ঘটবে? Ans:23592U থেকে একটি β – কণা নির্গত হলে, পারমাণবিক সংখ্যা 1 বেড়ে যাবে অর্থাৎ পারমাণবিক সংখ্যা হবে (92+1) বা 93 ২.২ বাম স্তম্ভের সঙ্গে ডান স্তম্ভের সামঞ্জস্য বিধান করো:
বামস্তন্ত ডানস্তম্ভ ২.২.১ জার্মান সিলভারে উপস্থিত ধাতু (a) Li ২.২.২ ইউরেনিয়ামোত্তর মৌল (b) Zn ২.২.৩ ক্যালামাইন থেকে নিষ্কাশিত ধাতু (c) Pu ২.২.৪ পর্যায়সারণির দ্বিতীয় পর্যায়ে (d) Ni অবস্থিত ক্ষারীয় ধাতু
Ans: বামস্তন্ত ডানস্তম্ভ ২.২.১ জার্মান সিলভারে উপস্থিত ধাতু (d) Ni ২.২.২ ইউরেনিয়ামোত্তর মৌল (c) Pu ২.২.৩ ক্যালামাইন থেকে নিষ্কাশিত ধাতু (b) Zn ২.২.৪ পর্যায়সারণির দ্বিতীয় পর্যায়ে (a) Li অবস্থিত ক্ষারীয় ধাতু
২.৩ নীচের বিবৃতিটি সত্য না মিথ্যা লেখোঃ তড়িৎ বিশ্লেষণ সর্বদা জারণ-বিজারণের মাধ্যমে ঘটে। Ans: সত্য ২.৪ অ্যাসিড মিশ্রিত জল তড়িৎ বিশ্লেষণের ফলে ক্যাথোডে কোন গ্যাস উৎপন্ন হয্ত Ans: অ্যাসিড মিশ্রিত জল তড়িৎ বিশ্লেষণের ফলে ক্যাথোডে হাইড্রোজেন (H2) গ্যাস উৎপন্ন হয়? অথবা নীচের কোনটি তড়িৎ বিশ্লেষ্য – চিনির জলীয় দ্রবণ, ইথানল এবং অ্যাসিটিক অ্যাসিড Ans: অ্যাসিটিক অ্যাসিড তড়িৎ বিশ্লেষ্য।
২.৫ কি ঘটবে যদি লোহার চামচকে অ্যাসিড মিশ্রিত কপার সালফেট দ্রবণে ডোবানো হয়? Ans: লোহার চামচকে অ্যাসিড মিশ্রিত কপার সালফেট দ্রবণে ডোবালে লোহার উপর কপারের আস্তরণ পড়বে এবং নীল বর্ণের কপার সালফেট দ্রবন সবুজ বর্ণে পরিণত হবে। Fe + CuSO4 = FeSO4 + Cu ২.৬ হেবার পদ্ধতিতে অ্যামোনিয়া প্রস্তুতির জন্য কোন ধাতুটি অনুঘটক হিসাবে ব্যবহার করা হয়? Ans: হেবার পদ্ধতিতে অ্যামোনিয়া প্রস্তুতির জন্য লোহা অনুঘটক হিসাবে ব্যবহার করা হয়।
অথবা শূন্যস্থান পূরণ করোঃ CaC2 + N2 → …… + C Ans: CaC2 + N2 → CaNCN + C ২.৭ থার্মিট পদ্ধতিতে কোন ধাতু নিষ্কাশিত হয়? Ans: থার্মিট পদ্ধতিতে লোহা নিষ্কাশিত হয়। ২.৮ নীচের জৈব যৌগটির IUPAC নাম লেখো।
CH3 - CH - CH3 | Br
Ans: জৈব যৌগটির IUPAC নাম 2-ব্রোমো প্রপেন। অথবা অবস্থানগত আইসোমেরিজম বা সমাবয়বতার উদাহরণ দাও। Ans: জৈব যৌগের কার্যকরী মূলকের অবস্থানের পার্থক্যের জন্য যে সমনায়বতার তাকে অবস্থানগত আইসোমেরিজম বা সমাবয়বতা বলে। যেমন একই আণবিক সংকেত বিশিষ্ট (C3H8O) দুটি জৈব যৌগ হলো নর্মাল প্রোপাইল অ্যালকোহল এবং আইসো প্রোপাইল অ্যালকোহল ।
২.৯ রান্নার পাত্রে আঠাবিহীন প্রলেপ বা ননস্টিক প্রলেপ দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত পলিমারের মনোমারটির নাম লেখো। Ans: রান্নার পাত্রে আঠাবিহীন প্রলেপ বা ননস্টিক প্রলেপ দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত পলিমারের মনোমারটির নাম টেট্রাফ্লুরো ইথিলিন (F2C = CF2) ২.১০ বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে ঝড়-বৃষ্টি ঘটা সম্ভব? Ans: বায়ুমণ্ডলের ট্রপোস্ফিয়ারে ঝড়-বৃষ্টি ঘটা সম্ভব।
অথবা ওজনস্তরের গাঢ়ত্ব কোন এককে প্রকাশ করা হয়? Ans: ওজনস্তরের গাঢ়ত্ব প্রকাশ করা হয় ডবসন এককে । ২.১১ রেফ্রিজারেটর থেকে নির্গত প্রিনহাউস গ্যাসটির নাম লেখো। Ans: রেফ্রিজারেটর থেকে নির্গত প্রিনহাউস গ্যাসটি হল ক্লোরোফ্লুরো কার্বন (CFC) ২.১২ নীচের বিবৃতিটি সত্য না মিথ্যা লেখোঃ চার্লসের সূত্রানুযায়ী, (-)273°C তাপমাত্রায় যে কোনো গ্যাসের আয়তন অসীম হয়। Ans: মিথ্যা
২.১৩ S.T.P তে 16 গ্রাম অক্সিজেন গ্যাসে উপস্থিত অণুর সংখ্যা কত? Ans: S.T.P তে 16 গ্রাম অক্সিজেন গ্যাসে উপস্থিত অণুর সংখ্যা 3.011×1022 টি [O2 -এর আনবিক ভর = 16×2 = 32 S.T.P তে, 32 গ্রাম O2 এ অণু আছে 6.022×1022 টি 1 গ্রাম O2 এ অণু আছে 6.022×1022/32 টি 16 গ্রাম O2 এ অণু আছে 6.022×1022/32×16 টি = 3.011×1022 টি
২.১৪ নীচের বিবৃতিটি সত্য না মিথ্যা লেখোঃ লোহার দৈর্ঘ্য প্রসারণ গুণাঙ্ক 1.2×10-5/℃ হলে, লোহার আয়তন প্রসারণ গুণাঙ্ক 3.6×10-5/℃ হবে। Ans: সত্য [আমরা জানি , আয়তন প্রসারণ গুণাঙ্ক = 3×দৈর্ঘ্য প্রসারণ গুণাঙ্ক এখানে লোহার দৈর্ঘ্য প্রসারণ গুণাঙ্ক 1.2×10-5/℃ ∴ লোহার আয়তন প্রসারণ গুণাঙ্ক = 3×1.2×10-5/℃ = 3.6×10-5/℃] অথবা Wm-1K-1 এটি কোন ভৌতরাশির একক? Ans: Wm-1K-1 পরিবাহিতাঙ্কের একক।
২,১৫ বিবর্ধক কাচ বুপে কোন ধরণের লেন্স ব্যবহৃত হয়? Ans: বিবর্ধক কাচ বুপে উত্তল লেন্স ব্যবহৃত হয়। ২.১৬ আলোকরশ্মির প্রতিসরণের সময় আপতন কোণের কোন্ মানের জন্য স্নেলের সূত্রটি প্রযোজা নয়? Ans: আপতন কোণ 0o হলে স্নেলের সূত্রটি প্রযোজা নয়। ২.১৭ বর্তমানে তড়িৎ-বর্তনীতে ফিউজ তারের পরিবর্তে কী ব্যবহার করা হয়? Ans: বর্তমানে তড়িৎ-বর্তনীতে ফিউজ তারের পরিবর্তে সার্কিট ব্রেকার বা MCB ব্যবহার করা হয়।
২.১৮ 220V- 100W বাল্বের রোধ কত? Ans: 220V – 100W বাল্বের রোধ 484 ওহম। [এখানে V = 220V; P = 100W আমরা জানি P = IV বা, P = V/R. V – – – – – [V = IR] বা, P = V 2/R ∴ V = 2202/ 100 = 484 ]
বিভাগ – গ
৩। নিম্নলিখিত প্রশ্নগুলির উত্তর দাও (বিকল্প প্রশ্নগুলি লক্ষণীয়):
৩.১ এমন দুটি সংকর ধাতুর নাম লেখো, যেখানে কপার উপস্থিত। প্রত্যেকটি সংকর ধাতুর একটি করে ব্যবহার রেখো। ১+১ Ans: ব্রোঞ্জ ও পিতল হল কপারের দুটি সংকর ধাতু। ব্যবহার: ▪️ ব্রোঞ্জ মুদ্রা, স্প্রিং, অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। ▪️ পিতল রান্নার পাত্র, তালা, দরজার হাতল তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। অথবা খনিজ এবং আকরিকের মধ্যে পার্থক্য বুঝিয়ে লেখো। ২ Ans: প্রকৃতিতে কোনো ধাতু যৌগ আকারে অবস্থান করলে ওই যৌগকে মৌলটির খনিজ বলে। আবার যেসব খনিজ পদার্থ থেকে প্রয়োজনীয় ধাতুকে সুলভে এবং সহজে নিষ্কাশন করা যায় তাকে ওই ধাতুর আকরিক বলে। যেমন রেড হেমাটাইট (Fe2O3) ও আয়রন পাইরাইটস (FeS2) লোহার দুটি খনিজ পদার্থ। রেড হেমাটাইট থেকে সহজেই ও স্বল্প খরচে লোহা নিষ্কাশন করা যায়। তাই রেড হেমাটাইট লোহার আকরিক। কিন্তু আয়রন পাইরাইটস থেকে সহজে এবং সুলভে ভালো মানের লোহা পাওয়া যায় না। তাই এটি লোহার আকরিক নয়। ৩.২ কিভাবে নীচের পরিবর্তনটি সম্পন্ন করা যায়। ২
H H H H | | | | C = C → H - C - C - H | | | | H H H H
Ans: 250°C তাপমাত্রায় উত্তপ্ত নিকেল চূর্নের উপর দিয়ে ইথিলিন এবং হাইড্রোজেনের মিশ্রণ চালনা করলে ইথেন উৎপন্ন হয়। এখানে Ni অনুঘটকের কাজ করে। H2C = CH2 + H2 → (NI/250°C) H3C – CH3 অথবা
দুটি জৈবভঙ্গুর (বায়োডিগ্রেডেবল) পলিমারের নাম লেখো। ২ Ans: দুটি জৈবভঙ্গুর (বায়োডিগ্রেডেবল) পলিমার হল প্রোটিন এবং স্টার্চ। ৩.৩ ওজনস্তরকে প্রাকৃতিক সৌরপর্দা বলা হয় কেন ব্যাখ্যা করো। Ans: বায়ুমণ্ডলের স্ট্যাটা স্ট্রাটোস্ফিয়ারের নিচের অংশে থাকা ওজোনস্তর সূর্য থেকে আসা অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে পৃথিবীতে ঢুকতে বাধা দেয় এবং অতিবেগুনি রশ্মির ক্ষতিকারক প্রভাব থেকে পৃথিবীকে রক্ষা করে। তাই ওজনস্তরকে প্রাকৃতিক সৌর পর্দা বলে। অথবা বিশ্বউষ্ণায়ণ এবং গ্রিনহাউস এফেক্ট কিভাবে সম্পর্কযুক্ত। ২ Ans: কার্বন ডাই-অক্সাইড, ক্লোরোফ্লুরো কার্বন,, ওজোন, জলীয় বাষ্প প্রভৃতি গ্রিনহাউস গ্যাসগুলির দ্বারা বায়ুমণ্ডলের উষ্ণতা বৃদ্ধিই হল বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রধান কারণ । সূর্য থেকে আসা ক্ষুদ্র তরঙ্গদৈর্ঘ্যবিশিষ্ট তাপীয় বিকিরণ পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের মধ্যে দিয়ে গিয়ে ভূপৃষ্ঠকে উত্তপ্ত করে। আবার ভূপৃষ্ঠ থেকে নির্গত দীর্ঘ তরঙ্গদৈর্ঘ্যবিশিষ্ট ইনফ্রারেড রশ্মি মহাশূন্যে ফেরার সময় বায়ুমণ্ডলে উপস্থিত গ্রিনহাউস গ্যাসগুলির দ্বারা শোষিত ও বাধাপ্রাপ্ত হয়ে তার কিছু অংশ পুনরায় পৃথিবীপৃষ্ঠে ফিরে এসে বায়ুমন্ডলকে উত্তপ্ত করে । এর ফলে পৃথিবীর স্বাভাবিক উষ্ণতা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায় ও বিশ্ব উষ্ণায়ন ঘটে ।
৩.৪ 76 সেমি পারদস্তম্ভচাপে এবং 27°C তাপমাত্রায় নির্দিষ্ট পরিমাণ গ্যাসের আয়তন 200c.c.। যদি গ্যাসটির চাপ 38 সেমি পারদস্তম্ভ এবং তাপমাত্রা 127°C-এ পরিবর্তিত হয়, তবে গ্যাসটির আয়তন নির্ধারণ করো। ২ Ans: প্রাথমিক চাপ (P1) = 76 সেমি পারদস্তম্ভ প্রাথমিক তাপমাত্রা (T1) = 27°C = (27+273)K = 300K থমিক আয়তন (V1) = 200 c.c. অন্তিম চাপ(P2) = 38 সেমি পারদস্তম্ভ অন্তিম তাপমাত্রা (T2) = 127°C = (127+273)K = 400K ধরি অন্তিম আয়তন (V2) = V c.c. ∴ চার্লস ও বয়েলের সমন্বয় সূত্র থেকে পাই,, P1V1/T1= P2V2/T2 বা, 76×200/300= 38×V/400 বা, 400/3 = V/4 ∴ 3V=1600 বা V = 1600/3 = 533.33 উত্তর: গ্যাসটির আয়তন 533.33 c.c অথবা
227°C তাপমাত্রায় এবং 83.14 সেমি পারদস্তম্ভ চাপে 14 গ্রাম নাইট্রোজেন গ্যাসের আয়তন নির্ণয় করো, [R = 8.314 জুল মোল-1K-1] ২ Ans: এখানেT = 227°C= (227+273)K = 500K; P = 83.14 সেমি পারদস্তম্ভের চাপ = 83.14×13.6×9.8 N/m2 = 8.314×136×98 N/m2 R = 8.314 জুল মোল-1K-1 মোল সংখ্যা(n) = 14/28 = 1/2 আমরা জানি, PV = nRT বা, 8.314×136×98×V = 1/2×8.314×500 বা, 136×98×V = 250 ⇒ V = 250/136×98 = 0.01875 ∴ V = 0.01875 m3 = 0.01875×106 cc = 18.75×103 cc উত্তর: গ্যাসের আয়তন18.75×103 cc
৩.৫ অবতল লেন্স দ্বারা প্রতিবিম্ব গঠন প্রক্রিয়াটি উপযুক্ত রেখাচিত্র অঙ্কন করে ব্যাখ্যা করো। ২ Ans: .
PQ লক্ষ্যবস্তু MN অবতল লেন্সের প্রধান অক্ষের ওপর লম্বভাবে অবস্থিত । Q বিন্দু থেকে আগত প্রধান অক্ষের সমান্তরাল আলোকরশ্মি লেন্সে প্রতিসরণের পর ফোকাস F থেকে অপসৃত হচ্ছে বলে মনে হয়। Q বিন্দু থেকে অপর একটি তীর্যক রশ্মি আলোককেন্দ্র (O) দিয়ে সোজা চলে যায়। এই দুই প্রতিসৃত রশ্মিকে পিছনের দিকে বাড়ালে q বিন্দুতে মিলিত হয়। সুতরাং Q-এর প্রতিবিম্ব হল q। q বিন্দু থেকে প্রধান অক্ষের ওপর qp লম্ব টানা হল। সুতরাং pq হল PQ-এর প্রতিবিম্ব। এক্ষেত্রে বস্তুটি লেন্সের যে দিকে থাকে প্রতিবিম্বটি সেই দিকেই গঠিত হয় এবং প্রতিবিম্বটি অসৎ, সমশীর্ষ এবং বস্তু অপেক্ষা আকারে ছোটো হয়। অথবা
আকাশকে নীল দেখায় কেন একটি চিত্রসহ ব্যাখ্যা করো। ২ Ans: আলোর বিক্ষেপণের জন্য আকাশকে নীল দেখায়। বায়ুমণ্ডলে ভাসমান ধূলিকণা এবং বিভিন্ন গ্যাসের অণু দ্বারা সূর্যালোকের বিক্ষেপণ ঘটে। বিক্ষিপ্ত আলোর তীব্রতা, আপতিত আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্যের চতুর্থ ঘাতের ব্যস্তানুপাতিক হয়। লাল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য তুলনামূলকভাবে বেশি, তাই লাল আলোর বিক্ষেপণ অনেকটাই কম। বেগুনি বা নীল বর্ণের আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য অপেক্ষাকৃত কম, তাই এদের ক্ষেত্রে বিক্ষেপণের মাত্রা বেশি হয়। সূর্যের সাদা আলো ভাসমান ধূলিকণা ও বিভিন্ন গ্যাস অণুর দ্বারা বিক্ষিপ্ত হওয়ার পর তার মধ্যে উপস্থিত বেগুনি ও নীল বর্ণের আলোর তীব্রতা সবচেয়ে বেশি হয়। আমাদের চোখ বেগুনি আলো অপেক্ষা নীল আলোর প্রতি বেশি সংবেদনশীল, তাই বায়ুমণ্ডলে সূর্যের বিক্ষিপ্ত আলো আমাদের চোখে এসে পৌঁছোলে নীল আলোর অধিক বিক্ষেপণের জন্য আমরা আকাশকে নীল দেখি।
৩.৬ 4 ওহম রোধবিশিষ্ট একটি পাতলা তারকে বৃত্তে পরিবর্তিত করা হলে, বৃত্তটির যে কোনো ব্যাস বরাবর রোধ নির্ণয় করো। Ans: বৃত্তটির যে কোনো ব্যাস বরাবর তারটি সমান দুভাগে ভাগ হবে। ∴ প্রতিটি ভাগের রোধ হবে 4/2 = 2 ওহম। প্রতিটি ভাগ পরস্পর সমান্তরাল সমবায়ে যুক্ত হবে। ∴ ব্যাস বরাবর রোধ R ওহম হলে, 1/R = 1/2 + 1/2 = 1 হবে। ∴ R = 1 হবে। উত্তর: ব্যাস বরাবর রোধ 1 ওহম।
৩.৭ ক্যালসিয়াম অক্সাইডের ইলেকট্রন ডট গঠনটি এঁকে দেখাও, [Ca এবং O-এর পারমাণবিক সংখ্যা যথাক্রমে 20 এবং 8 হয়।]
Ans; ক্যালসিয়াম পরমানুর (2,8,8,2) যোজ্যতা কক্ষের 2টি ইলেকট্রন অক্সিজেন পরমানুর (2,6) যোজ্যতা কক্ষে স্থানান্তরিত হওয়ার ফলে আয়নীয় যৌগ CaO উৎপন্ন হয়। CaO এর ইলেকট্রন ডট গঠনটি হল:
অথবা
সোডিয়াম ক্লোরাইডের গলনাঙ্ক গ্লুকোজ গলনাঙ্ক থেকে অনেকটা বেশি কেন ব্যাখ্যা করো। ২ Ans: সোডিয়াম ক্লোরাইডের গলনাঙ্ক গ্লুকোজের গলনাঙ্কের চেয়ে বেশি। , সোডিয়াম ক্লোরাইড আয়নীয় যৌগ। তাই এর ধনাত্মক ও ঋণাত্মক আয়নগুলি তীব্র তড়িৎ কুলম্বীয় বলের প্রভাবে একে অপরের কাছাকাছি অবস্থান করে। এর জন্য সোডিয়াম ক্লোরাইড সাধারণ উষ্ণতায় কঠিন প্রকৃতির হয়। অর্থাৎ গলনাঙ্ক বেশি হয়। কিন্তু গ্লুকোজ সমযোজী যৌগ। গ্লুকোজ অণুদের মধ্যে দুর্বল ভ্যানডার ওয়ালস বল ক্রিয়া করে। এর জন্য গ্লুকোজের গলনাঙ্ক কম হয়। ৩.৮ নিচের যৌগগুলির মধ্যে তড়িৎযোজী আর সমযোজী যৌগ সনাক্ত করো – LiH, NH3, KCI, C₂H6 Ans: তড়িৎযোজী যৌগ – LiH, KCI সমযোজী যৌগ – NH3 , C₂H6 ৩.৯ উত্তপ্ত সোডিয়ামের ওপর দিয়ে শুদ্ধ অ্যামোনিয়া গ্যাস চালনা করলে কি ঘটবে, শমিত রাসায়নিক সমীকরণ সহ লেখো। ২ Ans: 360°Cউষ্ণতায় উত্তপ্ত সোডিয়ামের (Na) ওপর দিয়ে শুদ্ধ অ্যামোনিয়া (NH3) গ্যাস চালনা করলে মোমের মতো সাদা কঠিন সোডিয়াম অ্যামাইড (NaNH2) বা সোডাৃাইড এবং হাইড্রোজেন গ্যাস (H2) উৎপন্ন হয়। এই বিক্রিয়ার রাসায়নিক সমীকরণ হল: 2Na + 2NH3 = 2NaNH2 + H2
বিভাগ – ঘ
৪। নিম্নলিখিত প্রশ্নগুলির উত্তর দাও (বিকল্প প্রশ্নগুলি লক্ষণীয়):
৪.১ আধুনিক পর্যায় সুত্রটি লেখো। শ্রেণি 1 থেকে 2 এবং শ্রেণি 13 থেকে 17 পর্যায় বরাবর মৌলগুলির পারমাণবিক ব্যাসার্ধের প্রবণতা আলোচনা করো। ১+২ Ans: আধুনিক পর্যায় সূত্র হলো, “মৌলসমূহের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্ম তাদের পারমাণবিক সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে পর্যায় ক্রমে আবর্তিত হয়”। ▶️ পর্যায় বরাবর পর্যায়-সারণির বামদিকে থেকে যদি ডানদিকে যাওয়া যায় তবে মৌলগুলির পারমাণবিক ব্যাসার্ধ কমে যায়। সুতরাং পর্যায় বরাবর 1 নং শ্রেণির মৌলগুলির থেকে 2 নং শ্রেণির মৌলগুলির পারমাণবিক ব্যাসার্ধ কম হবে। যেমন দ্বিতীয় পর্যায়ের ক্ষেত্রে: Li > Be অনুরূপে 13 নং শ্রেণির মৌলগুলির থেকে 17 নং শ্রেণির মৌলগুলিরও পর্যায় বরাবর পারমাণবিক ব্যাসার্ধ ক্রমশঃ কমতে থাকবে। যেমন দ্বিতীয় পর্যায়ের ক্ষেত্রে: B > C > N > O > F
অথবা আধুনিক পর্যায় সারণীতে হাইড্রোজেনের অবস্থান ব্যাখ্যা করো। পর্যায় সারণির কোন্ শ্রেণিতে কঠিন, তরল এবং গ্যাসীয় মৌল অবস্থান করে? ২+১ Ans: পর্যায় সারণিতে হাইড্রোজেনের অবস্থান বিতর্কমুলক। অনেকের মতে একে পর্যায় সারণির IA শ্রেণিতে আবার কারও মতে এটি VIIA শ্রেণিতে বসতে পারে। IA শ্রেণির ক্ষার ধাতুর মতো হাইড্রোজেনর যোজ্যতা 1 এবং ক্ষার ধাতুর ন্যায় হাইড্রোজেনও হ্যালোজেনের সাথে যুক্ত হয়ে হ্যালাইড গঠন করে। তাই হাইড্রোজেনকে IA শ্রেণিতে রাখা হয়। আবার VIIA শ্রেণির হ্যালোজেনসমূহের ন্যায় হাইড্রোজেনও একটি অধাতু এবং হ্যালোজেনসমূহের ন্যায় হাইড্রোজেনও দ্বিপরমাণুক। তাই হাইড্রোজেনকে VIIA শ্রেণিতেও রাখা যেতে পারে। ▶️ আধুনিক পর্যায় সারণির 17 নম্বর শ্রেণিতে কঠিন, তরল, এবং গ্যাসীয় মৌল অবস্থান করে।
৪.২ পিতলের চামচে নিকেলের তড়িৎ লেপনের জন্য ক্যাথোড, অ্যানোড এবং তড়িদবিশ্লেষ্য হিসাবে কী কী পদার্থ ব্যবহৃত হয়? ৩ Ans: পিতলের চামচে নিকেলের তড়িৎ লেপনের জন্য, ক্যাথোড হিসেবে পিতলের চামচ, অ্যানোড হিসেবে বিশুদ্ধ নিকেলের পাত, এবং তড়িৎ বিশ্লেষ্য হিসেবে বোরিক অ্যাসিড মিশ্রিত অ্যামোনিয়াম সালফেট [(NH4)2SO4] এবং নিকেল সালফেটের (NiSO4) জলীয় দ্রবণ ব্যবহার করা হয়।
৪.৩ লেড নাইট্রেটের জলীয় দ্রবণে হাইড্রোজেন সালফাইড পাঠালে, কি ঘটবে শমিত রাসায়নিক সমীকরণসহ লেখো। ৩ Ans: লেড নাইট্রেটের জলীয় দ্রবণে হাইড্রোজেন সালফাইড পাঠালে, লেড নাইট্রেটের সাথে হাইড্রোজেন সালফাইডের বিক্রিয়ায় কালো রঙের লেড সালফাইড উৎপন্ন হয়। ফলে দ্রবণের বর্ন কালো হয়ে যায়। শমিত রাসায়নিক সমীকরণ: Pb(NO3)2 + H2S → PbS + 2HNO3
৪.৪ 1, 2 ডাইব্রোমোইথেন এবং 1, 1, 2, 2 টেট্রারোমো ইথেনের গঠন। সংকেত লেখো। ইথাইল অ্যালকোহলের সঙ্গে গাঢ় সালফিউরিক অ্যাসিড মিশিয়ে উত্তপ্ত করলে, যে জৈবযৌগটি উৎপন্ন হয়, তার নাম লেখো। ২+১ Ans:
1,2 ডাইব্রোমোইথেনের গঠন সংকেত H Br | | H - C - C - H | | Br H
1,1,2,2 টেট্রারোমো ইথেনের গঠন সংকেত
Br Br | | H - C - C - H | | Br Br
▶️ ইথাইল অ্যালকোহলের সঙ্গে (C2H5OH) গাঢ় সালফিউরিক অ্যাসিডের (H2SO4) মিশিয়ে উত্তপ্ত করলে ইথিলিন (C2H4) উৎপন্ন হয়।
অথবা সি এন জি (CNG)-এর একটি ব্যবহার লেখো। মিথানল এবং ইথানলের একটি করে ক্ষতিকর প্রভাব আলোচনা করো। ১+২ Ans: গাড়িতে পেট্রোল, ডিজেল ইত্যাদি জীবাশ্ম জ্বালানীর বিকল্প হিসেবে সি এন জি ব্যবহার করা হয়। ▶️ মিথানলের ক্ষতিকর প্রভাব: মিথানল অপটিক নার্ভকে ক্ষতিগ্রস্ত করে অন্ধত্ব রোগ সৃষ্টি করে। ▶️ ইথানলের ক্ষতিকর প্রভাব: ইথানল চামড়া ও চোখে জ্বালাপড়া সৃষ্টি করে।
৪.৫. অ্যাভোগ্যাড্রো সূত্রটি লেখো। শুদ্ধবায়ুর চেয়ে আর্দ্রবায়ু হালকা হয় – সাধারণ গাণিতিক হিসাব করে দেখাও। ১+২ Ans: অ্যাভোগ্যাড্রো সূত্র:একই চাপ ও উষ্ণতায়, সম-আয়তন সব গ্যাসের মধ্যে সমসংখ্যক অণু বর্তমান থাকে। ▶️ শুষ্ক বায়ুতে উপাদান হিসেবে নাইট্রোজেন (N₂) থাকে প্রায় 78% এবং অক্সিজেন (O₂) থাকে প্রায় 21%। বাকি 1% অন্যান্য গ্যাস থাকে। শুষ্ক বায়ুতে নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন প্রায় 4 : 1 অনুপাতে থাকে। ∴ শুষ্ক বায়ুর গড় মোলার ভর হয় = 4×28+1×32/4+1 = 112+32/5 = 144/5 = 28.8 গ্রাম। আবার, আর্দ্র বায়ুর মূল উপাদান জলীয় বাষ্প যার মোলার ভর 18 গ্রাম। সুতরাং শুষ্ক বায়ুর সঙ্গে জলীয় বাষ্প মিশে যখন আর্দ্র বায়ু হয় তখন তার গড় মোলার ভর 28.8 গ্রাম থেকে কম হয়। তাই শুষ্কবায়ুর চেয়ে আর্দ্রবায়ু হালকা হয়।
৪.৬ একটি আবদ্ধ পাত্রে 1 গ্রাম ম্যাগনেসিয়াম, 0.5 গ্রাম অক্সিজেনের উপস্থিতিতে পোড়ানো হলে, কোন্ বিক্রিয়কটি উদ্বৃত্ত থাকবে। উদ্বৃত্ত বিক্রিয়কটির পরিমাণ নির্ণয় করো। [Mg=24, O=16] Ans:
2Mg + O2 = 2MgO 2×24 2×16 = 48 = 32
বিক্রিয়ায় ম্যাগনেসিয়াম ও অক্সিজেনের অনুপাত = 48 : 32 = 3 : 2 ব্যবহৃত বিক্রিয়কের অনুপাত = 1 : 0.5 = 2 : 1 = 4 : 2 ∴ ম্যাগনেসিয়াম উদ্বৃত্ত থাকবে। 32 গ্রাম অক্সিজেন পোড়ায় 48 গ্রাম ম্যাগনেসিয়ামকে 1 গ্রাম অক্সিজেন পোড়ায় 48/32 গ্রাম ম্যাগনেসিয়ামকে 0.5 গ্রাম অক্সিজেন পোড়ায় 48/32×0.5 গ্রাম ম্যাগনেসিয়ামকে = 3/4 = 0.75 গ্রাম ম্যাগনেসিয়ামকে উত্তর: উদ্বৃত্ত বিক্রিয়কটির পরিমাণ =(1 -0.75) = 0.25 গ্রাম ম্যাগনেসিয়াম
অথবা কত গ্রাম CaCO3 -এর সঙ্গে অতিরিক্ত লঘু HCI বিক্রিয়া করে 66 গ্রাম CO2 উৎপন্ন করবে। [Ca=40, C=12, O=16] Ans:
CaCO3 + 2HCl = CaCl2 + CO2 + H2O 40+12+3×16 12+2×16 =52+48 =12+32 =100 =44 44 গ্রাম CO2 এর জন্য CaCO3 প্রয়োজন 100 গ্রাম 1 গ্রাম CO2 এর জন্য CaCO3 প্রয়োজন 100/44 গ্রাম 66 গ্রাম CO2 এর জন্য CaCO3 প্রয়োজন 100/44×66 = 150 গ্রাম উত্তর: 150 গ্রাম CaCO3 প্রয়োজন।
৪.৭ একটি রেল লাইনের পরপর দুই পাতের মধ্যে নির্দিষ্ট ব্যবধানে ফাঁক রাখা হয় কেন। দৈর্ঘ্য প্রসারণ গুণাঙ্ক (α), ক্ষেত্রপ্রসারণ গুণাঙ্ক (β) এবং আয়তন প্রসারণ গুণাঙ্ক (γ) -এর মধ্যে সম্পর্কটি লেখো। ২+১ Ans: দিনের বিভিন্ন সময়ে বা বিভিন্ন ঋতুতে তাপমাত্রার বিভিন্নতার জন্য রেল লাইনের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি বা হ্রাস পায়। কিন্তু দুটি লাইনের মধ্যে ফাঁক থাকার জন্য লাইনগুলি বাড়ার জায়গা পায়। লাইনগুলি মুখে মুখে জোড়া থাকলে উত্তাপে আর বাড়ার জায়গা না পেয়ে মাটি ছেড়ে উপরে উঠে পড়ত। ফলে দুর্ঘটনা ঘটত। তাই রেল লাইনের পরপর দুই পাতের মধ্যে নির্দিষ্ট ব্যবধানে ফাঁক রাখা হয়। ▶️ α, β এবং γ এর মধ্যে সম্পর্ক হলঃ α = β/2 = γ/3
অথবা 10°C তাপমাত্রায় একটি লোহার রডের দৈর্ঘ্য 20 সেমি হলে, 110°C তাপমাত্রায় রডটির দৈর্ঘ্য কত হবে নির্ণয় করো। (লোহার আয়তন প্রসারণ গুণাঙ্ক =36×10-6/℃] Ans: এখানে প্রাথমিক দৈর্ঘ্য (l1) = 20 সেমি; প্রাথমিক তাপমাত্রা (t1) = 10°C অন্তিম দৈর্ঘ্য (l1) =? অন্তিম তাপমাত্রা (t2) = 110°C লোহার আয়তন প্রসারণ গুণাঙ্ক (γ) = 36×10-6/℃ সুতরাং লোহার দৈর্ঘ্য প্রসারণ গুণাঙ্ক (α) = 36×10-6/℃/3 = 12×10-6/℃ আমরা জানি, α = l2 – l1/l1(t2 – t1) বা, l2 = l1 + α.l1(t2 – t1) বা, l2 = 20 + 20×12×10-6×(110 – 10) ∴ l2 = 20 + 240×10-6×100 বা, l2 = 20 + 24×10-3 বা, l2 = 20 + 0.024 = 20.024 উত্তর : 110°C তাপমাত্রায় রডটির দৈর্ঘ্য 20.024 সেমি।
৪.৮ প্রমাণ করো, আয়তাকার কাচের ফলকে আপতিত আলোক রশ্মি এবং ফলক থেকে নির্গত আলোক রশ্মি পরস্পরের সমান্তরাল হবে। ৩
Ans:
ABCD একটি আয়তাকার কাচের ফলকযার AB ও CD হল দুটি সমান্তরাল পৃষ্ঠ। একটি রশ্মি PQ বায়ু মাধ্যম থেকে কাচের ফলকের AB পৃষ্ঠের Q বিন্দুতে প্রতিসরণের পর কাচের ফলকের মধ্য দিয়ে QR পথে যায়। এই রশ্মিটি CD পৃষ্ঠের R বিন্দুতে পুনরায় আবার প্রতিসৃত হয়ে RS পথে বায়ুতে বেরিয়ে যায়। ধরা যাক Q বিন্দুতে আপতন কোণ এবং প্রতিসরণ কোণ যথাক্রমে I1 এবং r1। বায়ু সাপেক্ষে কাচের প্রতিসরাঙ্ক μহলে, প্রতিসরণের দ্বিতীয় সূত্রানুসারে, μ = sini1/sinr1 – – – – (i) এখন R বিন্দুতে আলোক রশ্মি কাচ থেকে বায়ুতে প্রতিসৃত হয়। আবার AB ও CD সমান্তরাল বলে Q ও Rবিন্দুতে অঙ্কিত অভিলম্ব দুটি পরস্পরের সমান্তরাল হয়। ∴R বিন্দুতে আপতন কোণ = Q বিন্দুতে প্রতিসরণ কোণ = r1 – – (একান্তর কোণ)। R বিন্দুতে প্রতিসরণ কোণ i2 হলে, ∴ 1/μ = sinr1/sini2 – – – – (ii) (i)×(ii) করে পাই, μ× 1/μ = sini1/sinr1×sinr1/sini2 ⇒ 1= sini1/sini2 ⇒sini1 = sini2 ∴ i1 = i2 অর্থাৎ আপতিত ও নির্গত রশ্মিদুটি পরস্পর সমান্তরাল হয়। অতএব, আয়তাকার কাচের ফলকে আপতিত আলোক রশ্মি এবং ফলক থেকে নির্গত আলোক রশ্মি পরস্পরের সমান্তরাল। (প্রমানিত)
অথবা একটি প্রিজমের প্রতিসরাঙ্ক μ এবং প্রতিসারক কোণ A। প্রিজমের একটি প্রতিসারক তলে আলোকরশ্মি লম্বভাবে আপতিত হল। আলোকরশ্মির চ্যুতিকোণ D হলে, μ, A এবং D-এর মধ্যে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করো। ৩ Ans:
XYZ একটি প্রিজমের প্রধান ছেদ যার ∠X প্রিজমের প্রতিসারক কোণ, XY এবং XZ দুটি প্রতিসারক তেল এবং YZ হল প্রিজমের ভূমি। এখানে প্রিজমের প্রতিসরাঙ্ক = μ; প্রতিসারক কোণ ∠X = A আলোকরশ্মির চ্যুতিকোণ = D ধরি আলোকরশ্মি PQ বায়ুর মধ্য দিয়ে গিয়ে কাচের প্রিজমের XY প্রতিসারক তলের Q বিন্দুতে লম্বভাবে আপতিত হল। সুতরাং আপতিত আলোকরশ্মি দিক পরিবর্তন না করে XZ-তে R বিন্দুতে আপতিত হবে। R বিন্দু থেকে প্রতিসরণের পর RS পথে নির্গত হবে। MN হল R বিন্দুতে XZ-এর উপর অভিলম্ব। ∠PQX = 90°; ∠A = A ∴ ∠QRX = 90° – A ∴ আপতন কোণ = ∠QRN = 90° – (90° – A) = A ∠MRT = A; চ্যুতিকোণ ∠TRS = D ∴ প্রতিসরন কোণ = ∠MRS = ∠MRT + ∠TRS = A + D ∴ μ = sin(A+D)/sinA
৪.৯ দীর্ঘদৃষ্টি বা হাইপারমেট্রোপিয়া কি? এর প্রতিকারে কোন ধরণের লেন্স ব্যবহার করবে? ২+১ Ans: যদি চোখ দুরের বস্তুকে স্পষ্ট দেখতে পায় কিন্তু কাছের বস্তুকে স্পষ্ট দেখতে না পায় তাহলে চোখের দৃষ্টিজনিত ত্রুটিকে দীর্ঘদৃষ্টি বা হাইপারমেট্রোপিয়া বলে। ▶️ দীর্ঘদৃষ্টি বা হাইপারমেট্রোপিয়া প্রতিকারে উপযুক্ত ফোকাস দৈর্ঘ্যের উত্তল লেন্স ব্যবহার করতে হবে।
৪.১০ তিনটি 20 ওহম রোধকে শ্রেণি সমবায়ে যুক্ত করে, সমবায়টি 30 ওহম রোধের সঙ্গে সমান্তরাল সমবায়ে যুক্ত করা হল, অন্তিম সমবায়ের তুল্যরোধ নির্ণয় করো। Ans: তিনটি 20 ওহম রোধকে শ্রেণি সমবায়ে যুক্ত করলে তুল্যরোধ হবে = (20 + 20 + 20) = 60 ওহম সমবায়টি 30 ওহম রোধের সঙ্গে সমান্তরাল সমবায়ে যুক্ত করা হলে, অন্তিম সমবায়ের তুল্যরোধ R ওহম হলে, 1/R = 1/60 + 1/30 বা, 1/R = 1+2/60 = 1/20 বা, R = 20 উত্তর : অন্তিম সমবায়ের তুল্যরোধ 20 ওহম
অথবা একই মানের তিনটি রোধকে শ্রেণি সমবায়ে যুক্ত করে ওদের দু-প্রান্তে একটি তড়িৎচালক বলের উৎস যোগ করা হলে 10 W ক্ষমতা ব্যয়িত হয়। রোধ তিনটিকে সমান্তরাল সমবায়ে যুক্ত করে একই তড়িৎচালক বল প্রয়োগ করলে কত Watt ক্ষমতা ব্যয়িত হবে। ৩ Ans: ধরি তিনটি রোধ x ওহম। তিনটি রোধকে শ্রেণি সমবায়ে যুক্ত করলে তুল্যরোধ হবে = 3x ওহম। এখানে ক্ষমতা (P) = 10 W আমরা জানি , P = V2/r বা, 10 = V2/3x বা, V2 = 30x রোধ তিনটিকে সমান্তরাল সমবায়ে যুক্ত করলে তুল্যরোধ (R) হলে, 1/R = 1/x + 1/x + 1/x বা, 1/R = 3/x বা, R = x/3 ∵ P = V2/r ∴ P = 30x/x/3 বা, P = 90 উত্তর : 90 Watt ক্ষমতা ব্যয়িত হবে।
৪.১১ লেন্জের সূত্রটি লেখো। লেন্জের সূত্রটি শক্তির সংরক্ষণ সূত্র মেনে চলে – যুক্তি দাও। ১+২ Ans: লেঞ্জের সূত্র: তড়িৎচুম্বকীয় আবেশের ক্ষেত্রে আবিষ্ট তড়িৎচালক বলের অভিমুখ এমন হয় যেন এই আবিষ্ট তড়িৎচালক বল বর্তনীতে তড়িৎপ্রবাহ সৃষ্টির কারণকে বাধা দিতে পারে। ▶️ লেঞ্জের সূত্র অনুযায়ী, যখন চৌম্বক ক্ষেত্র পরিবর্তিত হয়, তখন এটি একটি আবিষ্ট তড়িৎচালক বল উৎপন্ন করে। এই আবিষ্ট তড়িৎচালক বলের ফলে যে বর্তনী সৃষ্টি হয়, তা চৌম্বক ক্ষেত্রের পরিবর্তনের বিরুদ্ধে কাজ করে এবং এটি শক্তিকে সৃষ্টি বা ধ্বংস করতে বাধা দেয়, এইভাবে লেঞ্জের সূত্র শক্তি সংরক্ষণের সূত্র মেনে চলে।
১২ ভর বিচ্যুতি বলতে কি বোঝ? হিলিয়াম নিউক্লিয়াসের (42He) ভর বিচ্যুতি কত হবে যদি প্রোটন, নিউট্রন এবং হিলিয়াম নিউক্লিয়াসের ভর যথাক্রমে 1.00728, 1.00867 এবং 4.0015 amu হয়? ১+২ Ans: কোনা নিউক্লিয়াস মধ্যস্থ প্রোটন ও নিউট্রনগুলির মোট ভর এবং নিউক্লিয়াসের প্রকৃত ভরের পার্থক্যকে নিউক্লিয়াসটির ভর বিচ্যুতি বলে। ▶️ হিলিয়ামের নিউক্লিয়াসে 2টি প্রোটন ও (4-2)=2টি নিউট্রন থাকে। হিলিয়াম নিউক্লিয়াসের 2টি প্রোটন ও 2টি নিউট্রনের মোট ভর = (2×1.00728 + 2×1.00867) amu = (2.01456 + 2.01734) amu = 4.03190 amu হিলিয়াম নিউক্লিয়াসের প্রকৃত ভর = 4.0015 amu হিলিয়াম নিউক্লিয়াসের (He) ভর বিচ্যুতি = হিলিয়াম নিউক্লিয়াসের প্রোটন ও নিউট্রনের মোট ভর – হিলিয়াম নিউক্লিয়াসের প্রকৃত ভর = (4.03190 – 4.0015) amu = 0.0304 amu উত্তর : হিলিয়াম নিউক্লিয়াসের (He) ভর বিচ্যুতি 0.0304 amu