দশম শ্রেণির ভৌত বিজ্ঞানের সকল সূত্রাবলী

দশম শ্রেণির ভৌত বিজ্ঞানের সকল সূত্রাবলী

দশম শ্রেণির ভৌত বিজ্ঞানের সকল সূত্রাবলী

Class X Physical Science দশম শ্রেণির ভৌত বিজ্ঞানের সকল সূত্রাবলী

এই post-এ দশম শ্রেণির ভৌত বিজ্ঞানের সকল অধ্যায়ের প্রতিটি সূত্র পরপর দেওয়া হল। এতে তোমরা একজায়গায় সমস্ত সূত্রগুলো পেয়ে যাবে যা তোমাদের পরীক্ষা প্রস্তুতিতে সাহায্য করবে। পরবর্তী post-এ প্রতিটি সূত্র নিয়ে আলোচনা করা হবে এবং তার উপর বিভিন্ন প্রশ্ন ও উত্তর দেওয়া থাকবে।

গ্যাসের আচরণ

বয়েলের সূত্র:

স্থির উষ্ণতায় নির্দিষ্ট ভরের কোনাে গ্যাসের আয়তন ঐ গ্যাসের চাপের সঙ্গে ব্যাস্তানুপাতে পরিবর্তিত হয়।

চার্লসের সূত্র:

স্থির চাপে নির্দিষ্ট ভরের কোনাে গ্যাসের আয়তন প্রতি ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বৃদ্ধি বা হ্রাসের জন্য 0°C উষ্ণতায় গ্যাসের যে আয়তন হয় তার 1/273 অংশ যথাক্রমে বৃদ্ধি বা হ্রাস পায়।

কেলভিন স্কেলের সাপেক্ষে চার্লসের সূত্রের বিকল্প রূপ:

স্থির চাপে নির্দিষ্ট ভরের কোনাে গ্যাসের আয়তন তার পরম উষ্ণতাার সঙ্গে সমানুপাতিক হয়।

অ্যাভোগ্যাড্রো সূত্র:

একই উষ্ণতা ও চাপে সমআয়তন সকল গ্যাসে সমান সংখ্যক অনু থাকে।

গে-লুসাকের চাপের সূত্র:

স্থির আয়তনে 1°C উষ্ণতা বৃদ্ধি বা হ্রাসের জন্য যে-কোনো নির্দিষ্ট ভরের গ্যাসের চাপ 0°C উষ্ণতায় ওই গ্যাসের যে চাপ থাকে যথাক্রমে তার 1/273 অংশ বৃদ্ধি বা হ্রাস পায়।

গে-লুসাকের গ্যাসায়তন সূত্র:

একই উষ্ণতা ও চাপে গ্যাসীয় বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণকারী বিক্রিয়ক গ্যাসগুলি তাদের আয়তনের সরল অনুপাতে বিক্রিয়া করে এবং বিক্রিয়াজাত পদার্থ যদি গ্যাসীয় হয়, তাহলে ঐ একই উষ্ণতা ও চাপে বিক্রিয়াজাত পদার্থের আয়তন বিক্রিয়কগুলির আয়তনের সঙ্গে সরল অনুপাতে থাকে।

রাসায়নিক গণনা

ভরের সংরক্ষণ সূত্র বা নিত্যতা সূত্র:

যে-কোনো রাসায়নিক বিক্রিয়ায় উৎপন্ন পদার্থসমূহের মোট ভর বিকারক পদার্থ সমূহের মোট ভরের সমান হয় অর্থাৎ বিক্রিয়ার ফলে মোট ভরের কোন পরিবর্তন হয় না।

ভর ও শক্তির নিত্যতা সূত্র:

কোন রাসায়নিক বিক্রিয়ার আগে ও পরে, পদার্থের ভর ও শক্তির মোট পরিমাণ সর্বদা সমান থাকে। মহাবিশ্বে ভর ও শক্তির মোট পরিমাণ ধ্রুবক ও অপরিবর্তনীয়।

আলো

প্রতিফলনের সূত্রাবলী:

প্রথম সূত্র: আপতিত রশ্মি, প্রতিফলিত রশ্মি এবং আপাতন বিন্দুতে প্রতিফলকের উপর অঙ্কিত অভিলম্ব সর্বদা একই সমতলে থাকে।
দ্বিতীয় সূত্র: আপাতন কোন ও প্রতিফলন কোন সর্বদা সমান হয়।

প্রতিসরণের সূত্রাবলী:

প্রথম সূত্র: আপতিত রশ্মি, প্রতিসৃত রশ্মি এবং আপাতন বিন্দুতে দুই মাধ্যমের বিভেদতলের উপর অঙ্কিত অভিলম্ব সর্বদা একই সমতলে থাকে।
দ্বিতীয় সূত্র(স্নেলের সূত্র): দুটি নির্দিষ্ট মাধ্যম ও নির্দিষ্ট বর্ণের আলোর ক্ষেত্রে আপতন কোণের সাইন ও প্রতিসরন কোণের সাইনের অনুপাত সর্বদা ধ্রুবক হয়।

র‍্যালের সূত্র:

বিক্ষিপ্ত আলোর তীব্রতা(I) সংশ্লিষ্ট আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্যের(λ) চতুর্থঘাতের ব্যস্তানুপাতিক হয়।

আমাদের YOUTUBE CHANNEL দেখার জন্য এখানে ক্লিক করো। 

চল তড়িৎ

কুলম্বের সূত্রাবলী:

প্রথম সূত্র: সমজাতীয় তড়িতাধান পরস্পরকে বিকর্ষণ করে এবং বিপরীতধর্মী তড়িতাধান পরস্পরকে আকর্ষণ করে।
দ্বিতীয় সূত্র: দুটি স্থির বিন্দু আধানের মধ্যে কার্যকর আকর্ষণ বা বিকর্ষণ বল আধান দুটির পরিমাণের গুণফলের সমানুপাতিক এবং আধান দুটির মধ্যবর্তী দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক হয়।  এই বল আধান দুটির সংযোজক রেখা বরাবর ক্রিয়া করে এবং এই বলের মান পারিপার্শ্বিক মাধ্যমের প্রকৃতির উপর নির্ভর করে।

ওহমের সূত্র:

উষ্ণতা ও অন্যান্য ভৌত অবস্থা অপরিবর্তিত থাকলে কোনাে পরিবাহীর মধ্য দিয়ে তড়িৎপ্রবাহমাত্রা, ওই পরিবাহীর দুই প্রান্তের বিভব পার্থক্যের সমানুপাতী হয়।

তড়িৎপ্রবাহের তাপীয় ফল সংক্রান্ত জুলের সূত্রাবলী:

ইংরেজ পদার্থবিদ জেমস্ প্রেসকট জুল 1841 খ্রিস্টাব্দে তড়িৎপ্রবাহের তাপীয় ফল সংক্রান্ত তিনটি সূত্র প্রকাশ করেন। সূত্রগুলি হল-
(i) কোনাে পরিবাহীতে উৎপন্ন তাপ (H) পরিবাহীর মধ্য দিয়ে তড়িৎপ্রবাহমাত্রার (I) বর্গের সমানুপাতি হয় যখন পরিবাহীর রােধ (R) ও তড়িৎপ্রবাহের সময় (t) অপরিবর্তিত থাকে অর্থাৎ H ∝ I2. . . [যখন R এবং t ধ্রুবক]
(ii) কোনাে পরিবাহীতে উৎপন্ন তাপ (H) পরিবাহীর রোধের (R) সমানুপাতি হয় যখন পরিবাহীর মধ্য দিয়ে তড়িৎপ্রবাহমাত্রা (I) ও তড়িৎপ্রবাহের সময় (t) অপরিবর্তিত থাকে অর্থাৎ H ∝ R. . . [যখন I এবং t ধ্রুবক]
(iii) কোনাে পরিবাহীতে উৎপন্ন তাপ (H) পরিবাহীর মধ্য দিয়ে তড়িৎপ্রবাহের সময়ের (t) সমানুপাতি হয় যখন পরিবাহীর রােধ (R) ও তড়িৎপ্রবাহমাত্রা (I) অপরিবর্তিত থাকে অর্থাৎ H ∝ t . . . [যখন R এবং I ধ্রুবক]

অ্যাম্পিয়ারের সন্তরণ নিয়ম:

যদি কোন সাঁতারু তড়িৎবাহী তার বরাবর তড়িৎপ্রবাহের অভিমুখে হাত ছড়িয়ে এমনভাবে সাঁতার কাটে যে তার মুখ সর্বদা চুম্বক শলাকার দিকে থাকে তাহলে চুম্বক শলাকার উত্তর মেরু তার বাঁ হাতের দিকে বিক্ষিপ্ত হবে।

দক্ষিণ মুষ্টি নিয়ম:

যদি কোন তড়িৎবাহী তারকে ডান হাতের মুষ্টি দিয়ে এমন ভাবে ধরা হয় যাতে বুড়ো আঙ্গুল তড়িৎ প্রবাহের অভিমুখ নির্দেশ করে তাহলে অন্যান্য আঙুলগুলি বলরেখা অভিমুখে তারটিকে ঘিরে রাখে। বলরেখা চৌম্বক ক্ষেত্র নির্দেশ করে এবং বলরেখা অভিমুখে চুম্বক শলাকার উত্তর মেরু বিক্ষিপ্ত হয়।

ফ্লেমিং এর বাম হস্ত নিয়ম:

বামহস্তের বৃদ্ধাঙ্গুলি, মধ্যমা এবং তর্জনীকে পরস্পরের সঙ্গে সমকোণে রেখে প্রসারিত করলে যদি তর্জনি চৌম্বকক্ষেত্রের দিক এবং মধ্যমা তড়িৎপ্রবাহের দিক নির্দেশ করে, তবে বৃদ্ধাঙ্গুলি পরিবাহীর গতির অভিমুখ নির্দেশ করবে। একে মোটর নিয়মও বলে।

তড়িৎ চুম্বকীয় আবেশ সংক্রান্ত ফ্যারাডের সূত্রাবলী:

প্রথম সূত্র: কোনো বদ্ধ কুণ্ডলীর সঙ্গে জড়িত চৌম্বক প্রবাহের পরিবর্তন হলে ঐ কুন্ডলীতে তড়িৎচালক বল আবিষ্ট হয়, এই পরিবর্তন যতক্ষণ চলতে থাকে ততক্ষণ আবিষ্ট তড়িৎচালক বল বর্তমান থাকে।
দ্বিতীয় সূত্র: আবিষ্ট তড়িৎচালক বলের মান কুন্ডলীর সঙ্গে জড়িত চৌম্বক প্রবাহের পরিবর্তনের হারের সঙ্গে সমানুপাতিক হয়।

শক্তির নিত্যতা সূত্র হিসেবে লেঞ্জের সূত্র:

তড়িৎ চুম্বকীয় অবেশের ফলে সৃষ্ট আবিষ্ট তড়িৎপ্রবাহের অভিমুখ এমন হয় যে এটি নিজের সৃষ্টির কারনকে বাধা দেয়।

পর্যায় সারণি

ডোবেরাইনারের ত্রয়ী সূত্র:

ধর্মের সাদৃশ্য আছে এমন প্রতি তিনটি মৌলের মাঝের মৌলটির পারমাণবিক গুরুত্ব মোটামুটিভাবে অপর মৌল দুটির পারমাণবিক গুরুত্বের গড়ের সমান হয়।

নিউল্যান্ডসের অষ্টক সূত্র:

মৌলগুলোকে ক্রমবর্ধমান পারমাণবিক ভর অনুসারে সাজালে, যে কোনো একটি মৌল হতে শুরু করলে প্রতি অষ্টম মৌলের পরে তাদের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্মের পুনরাবৃত্তি ঘটবে।

মেন্ডেলিভের পর্যায় সূত্র:

মৌলসমুহেযর ভৌত ও রাসায়নিক ধর্মাবলি মৌলগুলির ক্রমবর্ধমান পারমাণবিক গুরুত্বের সঙ্গে পর্যায়ক্রমে পুনরাবৃত্ত হয়।

মেন্ডেলিভের সংশোধিত আধুনিক পর্যায় সূত্র:

মৌলসমূহের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্মাবলি মৌলগুলির ক্রমবর্ধমান পরমাণু ক্রমাঙ্কের সঙ্গে পর্যায়ক্রমে পুনরাবৃত্ত হয়।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
Verified by MonsterInsights